জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের

34

মাহাবুবুর রহমানঃদলের চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ আমৃত্যু দলটির চেয়ারম্যান ছিলেন। গত রবিবার এরশাদ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান। গত ৪ মে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এখন থেকে জি এম কাদেরকে আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলা যাবে না ‌।

কারণ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী সাবেক চেয়ারম্যানের অবর্তমান থেকেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের সাহেব। আপনারা জানেন এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ২০ এর ১/ক ধারা অনুযায়ী উনার অবর্তমানে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করে গেছেন।” জি এম কাদেরকে পার্টির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেয়ার সময় পার্টির প্রেসিডিয়ামসহ পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষণার পর জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব, মতভেদ ও বিভেদ নেই। জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ। বিরোধীদলের নেতা কে হবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্টির ফোরামে বসে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। বিষয়টি অনেকটা স্পিকারের উপর নির্ভরশীল, তবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সুপারিশ দেয়া হবে। এ সময় এই নতুন চেয়ারম্যান বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুদক্ষ ব্যবস্থাপক বলা হয়। উনি বেঁচে থাকলে আজকে বন্যা কবলিতদের পাশে ছুঁটে যেতেন। আমরা জাতীয় পার্টিরসহ সর্বস্তরের জনগণকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্ত্যদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি। পার্টির পক্ষ থেকে টিম গঠন করে অচিরেই বন্যার্ত্যদের পাশে দাঁড়ানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান জিএম কাদের।

রংপুরের উপ-নির্বাচন প্রশ্নে জিএম কাদের বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন করিনি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বোর্ড গঠন চুড়ান্ত করবে প্রার্থী। জিএম কাদের বলেন, মিডিয়ার ভূমিকার কারণে কোনো গুজব মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। দেশের মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পেয়েছেন। একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উনি আপনাদের কাছে যা পেয়ে গেলেন এদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে। টানা ষোলো দিন উপস্থিত হয়ে, কোন দেশের গণমাধ্যম একজন নেতার প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন ইতিহাসে বিরল। দেশের মানুষ হুসেন মুহাম্মদ এরশাদকে যেভাবে ভালোবেসেছে জাতীয় পার্টিও অনুরূপভাবে দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে পাশে থাকবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, হাসিবুল ইসলাম জয় প্রমুখ।