জানি না এই ছেলেটির নাম কি

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীঃ সিলেটে কোথায় তার বাড়ি? ‘এম্বুলেন্স ড্রাইভার’ এছাড়া তার সম্পর্কে কোন তথ্য জানা নেই আমার।

সারাদিনের অনুষ্টান সেরে, সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ হতে যখন ফিরছি, পুটিজুরী হয়ে স্নানঘাট পূজো পরিদর্শনে যাবো। হঠাৎ দেখি, ঢাকা সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ পানিউমদার ‘বড়চর’ নামক স্হানে একটি বৃহৎ বাস আর-এম্বুলেন্সের মুখমুখি দূর্ঘটনা। একই স্হানে ২ টি বাচ্চাসহ ১০ জন ঢাকাগামী এম্বুলেন্সের যাত্রীরা ভয়াবহ ভাবে রক্তাক্ত।

তার মধ্য একজন গর্ভবতী মা-ও রয়েছে। এদের সবার মধ্য গুরুতর আহত এম্বুলেন্স ড্রাইভার ভাইটি । যার পুরো শরীর ডুকে পরেছিল বাসের ইঞ্জিনের নিচে।
সারা মহাসড়ক যানবাহনের জট। আমি অনেক কষ্টে সামনে পৌছালাম । সাধারণ মানুষের সাথে আমিও চেষ্টা চালালাম। ফোনে ডিসি সাহেবের সহায়তা কামনা করলাম, পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। নবীগঞ্জ ইওনোকে পাঠাতে বললাম। অবশেষে গুরুতর আহত ড্রাইভারকে সকলে মিলে বের করতে পারলো; দুমড়ে মুছরে যাওয়া এম্বুলেন্স হতে।

ছেলেটির বয়স ২০/ ২২ বছরের হবে। মাথায় গভীর আঘাত। ডান চোখ তেথলে গেছে। ডান হাতটির মাংশ ছিড়ে গেছে। আমি সবাইকে নিয়ে অচেতন ছেলেটিকে আমার জিপে উঠালাম। ছেলেটির মাথা থেকে রক্ত পরছিল। আমার শাড়ী ভিজে গেছে। সবার হাতে শুধুই রক্ত। বাহুবল হাসপাতালে আমি ওকে নিয়ে আসলাম। দূর্ঘটনার স্বীকার অন্যান্যদের অবস্হাও আসংঙ্কাজনক। তবে গর্ভবতী মা টি-ই একমাত্র ব্যাক্তি, যার চেতন আছে। সে মাথায় ব্যাথা পেয়েছে। বাকি সবাই অচেতন ও মুমূর্ষ ।
বাহুবল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে ; কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে সিলেট ওসমামীতে প্রেরণের পরামর্শ দেয়। তারপর ওদেরকে আমি বাহুবল উপজেলার দুটি এম্বুলেন্স ও একটি প্রাইভেট মাইক্রোতে সিলেট ওসমানী মেডিক্যালের উদ্দেশ্য প্রেরণ করি।
আমি জানি না, এম্বুলেন্স ড্রাইভার ভাইটি বাচঁবে কি-না।
একটি বাচ্চা ঘটনাস্হলে মারা গেছে। হয়ত পথে আরো মৃত্যু হতে পারে। এদের স্বজনরা এখনো জেনেছে কি-না আমি জানি না। যদি কেউ এদের বিষয়ে কিছু জানেন। তবে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে দয়া করে খোঁজ নিন।-লেখক: সংসদ সদস্য ও আইনজীবি