অর্থ মন্ত্রণালয় হকারদের স্মারকলিপি

যুগবার্তা ডেস্কঃ হকারদের ওপর গ্রেফতার-মামলা-হয়রানি-নির্যাতন এবং পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ এবং হকারদের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে আজ অর্থ মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে হকার্স ইউনিয়ন। বেলা ১২টায় গুলিস্তান থেকে কয়েক হাজার হকারের একটি মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাত্রা করে। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে সচিবলায় লিংক রোডে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবীরের সভাপতিত্বে স্মারকলিপি পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত। উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, যুগĄ সম্পাদক হযরত আলী, সহসভাপতি আবুল কালাম, আহম্মদ আলী, গোলাপ হোসেন প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী ভাঙ্গন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারিয়ে দেশের বিভিনś অঞ্চলের মানুষ রাজধানী ঢাকা শহরে বসবাস করছে। তারা এখন এই ঢাকা শহরের ভোটার। জলবায়ু পরিবর্তনে এই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের জন্য দায়ী রাষ্ট্রগুলো থেকে যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় তা এই ক্ষতুগ্রস্থ মানুষ কখনই পায় না। তাই এই মানুষগুলো নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই সৃষ্টি করার জন্য বেছে নিয়েছে রাজধানীর ফুটপাত। এই হকারদের জীবন ধারণের উপায়ও ফুটপাত। ফুটপাত থেকে উপার্জন করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রায় ২ কোটির অধিক মানুষের শহরে কমপক্ষে ৪ লক্ষ হকার ফুটপাতের উপর নির্ভর করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। শুধু তাই নয়, তাদের উপার্জনের সঞ্চিত অর্থ থেকে কিছু টাকা গ্রামে গরিব মাতা-পিতার জন্য পাঠায়। যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে ভূমিকা পালন করে। দেশের ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পে বিকাশ সাধনে হকাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসন গত ২২ জনুয়ারি পুলিশ সপ্তাহের বলে হকারদেরকে ফুটপাত ছেড়ে দিতে বলে। এখানে উল্লেক করা প্রয়োজন, প্রশাসন তাদেরকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে, তারা পুলিশ সপ্তাহ শেষ হলে আবারও ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারবে। কিন্তু ইতোমধ্যে প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হয়েছে, শেষ হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ। কিন্তু হকারদের আর ফুটপাতে প্রশাসন দাঁড়াতে দিচ্ছে না। দীর্ঘ সময় কোনো রোজগার না থাকায় হকাররা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।