জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রস্তাব মুক্তিজোটের

যুগবার্তা ডেস্কঃ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের প্রথম দিনে আমন্ত্রিত বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটে (মুক্তিজোট) নির্বাচনী বিধি-বিধান সংষ্কারে ‘জাতীয় পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব রেখেছে। দলটির প্রস্তাব হচ্ছে- নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দলের প্রধানরা হবেন এই জাতীয় পরিষদের সদস্য। এসব সদস্যরা সংসদ সদস্যদের সমমানের হবেন। পরিষদের আহ্বায়ক হবেন পদাধিকার বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং পরিষদের প্রধান হবেন রাষ্ট্রপতি।

মুক্তিজোটের আরো প্রস্তাব হচ্ছে— দেশের সব নাগরিককে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিজ এলাকায় হাজির হয়ে ভোট দেয়ার বিষয়টি ঘরে ফেরার উত্সবে পরিণত হবে। এজন্য পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে হবে। তবে প্রবাসীদের বেলায় এর ব্যত্যয় হবে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে ভোট দেবেন। আর স্থায়ী ঠিকানায় সবাইকে ভোটার করা গেলে ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণও যুক্তিযুক্ত হবে। ই-ভোটিং ক্ষেত্রে দলটির প্রস্তাব, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ পদ্ধতি পরিচিতি করার পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার করা যেতে পারে। মুক্তিজোট নির্বাচন কমিশনের জনবলও বাড়ানোর প্রস্তাব রেখে অবিলম্বে জেলা ও উপজেলায় ন্যূন্যতম একজন করে সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানায়।

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া এ সংলাপের মুক্তিজোটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন তাঁদের দলীয় প্রতীক ‘ছড়ি’ হাতে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনোরদের কাছে দেয়ার জন্য যে লিখিত প্রস্তাবনা নিয়ে আসে তাতে লেখা ছিল, ‘ ডান নয়, বাম নয়, হাঁটতে হবে বাংলাদেশ বরাবর। সচেতন সামাজিক শক্তির শাসন নিশ্চিত করুন। দলটির নেতাদের পদ পদবীও ভিন্ন ধরণের।

দলটি ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন এবং ওই নির্বাচন পরবর্তী কোন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেনি। এর কারণ হিসেবে দলের নির্বাহী প্রধান আমিনুর রহমান বলেন, দশম সংসদ নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হয় তখন আমাদের দলের প্রতীক জনগনের কাছে পরিচিতি লাভ করেনি। আমরা এজন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় চেয়েও পাইনি। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব পদ দলীয় প্রতীকে করার জন্য জন্য উচ্চ- আদালতে আমরা রিট করেছি। ওই রিটের পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হলেও অন্যসব পদের নির্বাচন নির্দলীয় ভাবেই হচ্ছে। এ বিষয় সম্পর্কে আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনমূখী দল এবং অবশ্যই ওই নির্বাচনে আমাদের দল অংশ নেবে। নির্বািচনে সেনাবাহিনী নিয়েগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়। কমিশন যদি প্রযোজন মনে করে তাহলে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের কোন প্রস্তাব নেই।

সংলাপে আমিনুর রহমানের সাথে দলের সংগঠন প্রধান আবু লায়েস মুন্না, যুগ্ম সংগঠন প্রধান আমিনা খাতুন ওমী শিকদার, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান মো. শাহজামাল আমিরুল, কাঠামো পর্ষদ প্রধান মুহাম্মদ নাজমুল হাসান, পরিচালনা বোর্ড প্রধান মাহমুদ হাসান আবেদ, কন্ট্রোল বোর্ড প্রধান এডভোকেট ক্রিস্টিও মারিও দ্য শিল্পী দাস, এডিটোরিয়াল বোর্ড প্রধান মো. বদরুজ্জামান রিপন, জাতীয় কাঠামোগত সার্বক্ষণিক মো. সিরাজুল ইসলাম মহাসচিব আজিবুন্নাহার ঝুমা ও বীপ্র প্রধান এ কে এম শাহনেওয়াজ গনী এবং গভর্নর সাগর কুমার ভৌমিক উপস্থিত ছিলেন।-ইত্তেফাক