জাতিসংঘের রাজনৈতিক ফোরামের সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী

6

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ জাতিসংঘের চলতি উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম (এইচএলপিএফ) এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ কান্ট্রি স্টেটমেন্ট-এ বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এমপি। দেশ পর্যায়ের এই ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে এসডিজি বাস্তবায়ন প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের উল্লখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমরা সামগ্রিকভাবে এবং সমাজের সকলকে সাথে নিয়ে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি যাতে প্রতিটি নাগরিক উন্নয়নন কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারে এবং উন্নয়নের সুফল থেকে কেউ বাদ না যায়”।

মন্ত্রী আরও বলেন, “বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর হিসাব মতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি। ˆবশ্বিক নিন্মমুখী প্রবৃদ্ধি হার সত্ত্বেও বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে ৭ ভাগের উপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে”। পরিকল্পনা মন্ত্রী বাংলাদেশের রুপকল্প ২০২১ ও রƒপকল্প ২০৪১ এর প্রত্যাশার কথাও এই ফোরামে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে দুই অংক বিশিষ্ট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আয় ˆবষম্য কমাতে সর্বোচ্চ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে”।
মন্ত্রী বলেন, “টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণে আমরা মানসম্মত শিক্ষার উপর জোর দিয়েছি। নারী শিক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছি যাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লিঙ্গসমতা অর্জিত হয়। সরকার নাগরিকদের উনśত সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ স্যোসাল সিকিউরিটি কৌশল’ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে”।
জলবায়ুর বিরুপ প্রভাবের শিকার বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’সহ যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা উল্লেখ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত ˆবদেশিক রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করছে এবং গত অর্থ বছরে বাংলাদেশ ১৬.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের ˆবদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে মর্মে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি, ˆবৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, তথ্য-প্রযুক্তির বিস্তার ও যুবকেন্দ্রিক উনśয়ন ভাবনার কথাও তুলে ধরেন পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এমপি।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এসডিজির পূর্ণ বাস্তবায়নে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন মর্মে উলেøখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “এক্ষেত্রে উন্নয়ন অংশীদার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাসমূহকে আর্থিক, কারিগরি, সক্ষমতা বিনির্মাণ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে যাতে টেকসই অর্থনীতি ও সামাজিক উনśয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকে। আর এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী ˆবশ্বিক অংশীদারিত্ব; যা সময়ের দাবী”।
পরে পরিকল্পনা মন্ত্রী ইকোসকের সভাপতি ও জাতিসংঘের আঞ্চলিক কমিশনসমূহ (ইকোনমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, ইকোনমিক কমিশন ফর ল্যাটিন আমেরিকা এন্ড ক্যারিবিও, ইকোনমিক এন্ড স্যোসাল কমিশন ফর এশিয়া এন্ড দ্যা প্যাসিফিক, ইকোনমিক এন্ড স্যোসাল কমিশন ফর ওয়েস্ট আফ্রিকা, ইকোনমিক কমিশন ফর ইউরোপ) এর আয়োজনে “জাতীয় টেকসই উনśয়ন বাস্তবাতায় এজেন্ডা ২০৩০ এর বাস্তবায়ন: আঞ্চলিক প্রেক্ষিতসমূহ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের মধ্যাহ্ন ভোজ সভায় যোগ দেন। তিনি অনুষ্ঠানটিতে প্রদত্ত বক্তব্যে দেশ পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের আঞ্চলিক এজেন্সিসমূহের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইকোনমিক এন্ড স্যোসাল কমিশন ফর এশিয়া এন্ড দ্যা প্যাসিফিক (এসকাপের) এর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।