ছাত্র-শ্রমিক সংহতি দিবস পালিত

যুগবার্তা ডেস্কঃ শুক্রবার ২২ ডিসেম্বর ছাত্র-শ্রমিক সংহতি দিবস। ১৯৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশন চত্বরে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আহুত ৪৮ ঘন্টার শ্রমিক-ধর্মঘট এবং ১৫ দল, ৭ দল, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সমর্থিত ৪৮ ঘন্টার হরতালে পিকেটিং করতে গিয়ে তৎকালীন বিডিআর বাহিনীর লক্ষ্যেভেদী গুলিবর্ষনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা ও জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ নিহত হন।

শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একজন ছাত্রের আত্মত্যাগ ইতিহাসের অনন্য ঘটনা। এ ঘটনার পরবর্তী বছর থেকে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসমূহ ২২ ডিসেম্বর ছাত্র-শ্রমিক সংহতি দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।

ছাত্র-শ্রমিক সংহতি দিবসে শুক্রবার সকালে টায় নগরীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এবং সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় যুব জোট, জাতীয় শ্রমিক জোট, জাতীয় নারী জোটের নেতৃবৃন্দ শহীদ শাজাহান সিরাজের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, সহ-সভাপতি শফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, শওকত রায়হান, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, শাজাহান সিরাজ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব আলী খান, জাতীয় নারী জোটের ˆসয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপী, ঢাকা মহানগর পূর্ব জাসদের সধারণ সম্পাদক এ কে এম শাহ আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সভাপতি ইদ্রিস ব্যাপারী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব শামীম প্রমূখ।

মাল্যদান শেষে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, শহীদ শাজাহান সিরাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শ্রমিক-গরীবের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সমাজতন্ত্রকে সংবিধানের পাতা থেকে জীবনের পাতায় প্রতিফলনের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমন করে শান্তি স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যথা সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জাতীয় রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যেই শ্রমিক-গরীবের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত ধর্মের নামে জনগণের মধ্যে ভাগাভাগি, রক্তারক্তি, খুনাখুনি, অশান্তির যে রাজনীতি করছে তা শুধু বর্জন না, সমুলে উৎপাটন করতে হবে। হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কোন দিন সামরিক সরকার, অস্বাভাবিক সরকার, রাজাকারের সরকার না আসে তার জন্য গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি-মহল-ব্যাক্তিকে সতর্ক থাকতে হবে।