চ্যালেঞ্জের মুখে বিসিবি

2

আইসিসি ক্রিকেট কমিটির সোমবারের কিছু সুপারিশের দু-একটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য ছোটখাটো একটা ঝাঁকুনি হয়ে এসেছে। টেস্টখেলুড়ে পুরোনো ১০ দেশের মধ্যে আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির তালিকায় সবার পেছনে যে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের একজন আইসিসি ইমার্জিং আম্পায়ার আছেন, বাংলাদেশের তাও নেই। বোঝাই যায়, এই জায়গাতে সেভাবে ফোকাস করা হয়নি। তা না হলে এত বছরে একজন এলিট প্যানেল আম্পায়ার থাকবেন না কেন? তাই হাতের পাঁচ আন্তর্জাতিক প্যানেলে থাকা চারজন আম্পায়ার আর দু’জন ম্যাচ রেফারি দিয়েই টেস্ট ক্রিকেট চালাতে হবে বিসিবিকে। কারণ আইসিসি ক্রিকেট কমিটি সুপারিশ করেছে, কভিড-১৯ পরবর্তীতে ম্যাচ পরিচালনার জন্য নিরপেক্ষ আম্পায়ার থাকবেন না। স্বাগতিক দেশের এলিট ও আন্তর্জাতিক প্যানেলে থাকা আম্পায়ার আর ম্যাচ রেফারিদের নিয়োগ করা হবে ম্যাচ পরিচালনায়।

স্বাগতিক ম্যাচ অফিসিয়াল দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালিত হতো। স্বচ্ছতার প্রয়োজন থেকে সেখানে নিরপেক্ষ ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগের প্রচলন করে আইসিসি। টেস্ট ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন বিদেশি ম্যাচ অফিসিয়াল। কেবল চতুর্থ আম্পায়ার নেওয়া হয় স্বাগতিক দেশ থেকে। আন্তর্জাতিক ওয়ানডের ক্ষেত্রে একজন ফিল্ড আম্পায়ার নেওয়া হয়। টি২০ ম্যাচে দু’জন ফিল্ড আম্পায়ারই থাকেন স্বাগতিক।

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে ক্রিকেট মাঠে ফেরাতে অনেক নিয়মেই পরিবর্তন আনতে হচ্ছে আইসিসিকে। এই নিয়মের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে বাংলাদেশকে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে চান, ‘আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমিত জনশক্তি নিয়েই কাজ করতে হবে। নিকট ভবিষ্যতে এটির ওপর বেশি জোর দিতে হবে। যেহেতু নিয়মে পরিবর্তন আসছে। তাই ম্যাচ অফিসিয়ালের জায়গাগুলো সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করবে বিসিবি।’

আইসিসি প্রধান নির্বাহীদের সভায় জুনে অনুমোদন দেওয়া হবে নতুন নিয়ম। কভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে জুলাই-আগস্ট থেকে মাঠে ফিরতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেক্ষেত্রে দ্রুতই আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের উন্নয়নে কাজ করতে হবে বিসিবিকে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সিইও নিজামউদ্দিন বলেন, ‘আইসিসি ইমার্জিং প্যানেলেও আমাদের কোনো আম্পায়ার নেই। এই জায়গাতে উন্নতি করতে আমরা কিছু কাজ করছি। এ জন্য গেম এডুকেশন প্রোগ্রামকে সমৃদ্ধ করার জন্য ইতোমধ্যে একটি পরামর্শক ফার্মের সহযোগিতা নিচ্ছি। এটার একটা অংশ হলো আম্পায়ার এডুকেশন। আমরা বিশ্বাস করি, অন্যান্য জায়গার মতো আম্পায়ারিং এবং ম্যাচ রেফারির জায়গাটিও সমৃদ্ধ হবে।’

অনিল কুম্বলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইসিসি ক্রিকেট কমিটির সভায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ম্যাচ বল পলিশ করতে স্যালাইভা প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ঘাম ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। আর খেলার সময় মাঠ জীবাণুমুক্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিআরএস সুবিধাও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে অনিল কুম্বলের কমিটি। রিভার্স সুইং পেতে বল শাইনিং করতে বোলাররা স্যালাইভার ব্যবহার করতেন। মুখের লালায় করোনাভাইরাস থাকার ঝুঁকি এড়াতেই সেটি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়মকে স্বাগত জানিয়ে বিসিবির আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষা থেকে জানা গেছে, ঘামের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায় না। বল পলিশের জন্য ঘাম ভালো বিকল্প।’

তবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগ আর ডিআরএস বৃদ্ধিকে ভালো চোখে দেখছেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। তিনি একটু সোজাসাপটাই বলে দিলেন, ‘ডিআরএস বাড়াচ্ছে দলের সুবিধার জন্য নয়, আম্পায়ারদের দুর্বল মনে করা হচ্ছে। আম্পায়ারদের সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই অতিরিক্ত রিভিউ যোগ করার সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এতে আম্পায়ারদের অপমান করা হবে।’ বর্তমানে টেস্ট ইনিংসে একটি দল দুটি করে অসফল, ওয়ানডে আর টি২০তে একটি করে অসফল রিভিউ নিতে পারে।সমকাল