চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন

যুগবার্তা ডেস্কঃ দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে নানা মুখি চাপে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া বিষয়ে সুশীল সমাজের সমালোচনা, ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আপত্তি এবং বাস্তবতার নিরিখে একের পর এক সিদ্ধান্ত ওলট-পালট করা সহ নানা বিষয় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে ইসি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্র্মকর্তারা।

এবিষয়ে কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারি হয়েছে এখন বিধিমালা ছাড়া নির্বাচন করা সম্ভব না। খসড়া বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য গত ৫ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এরপর ধরে নিয়েছিলাম যে এক সপ্তাহের মধ্যে বিধিমালা হাতে পাবো। কিন্তু বিধিমালা আমাদের কাছে এখনো আসেনি। বিধিমালা আসতে দেরি হলে আইনি জটিলতা বেড়ে যাবে।

হাতে সময় কম থাকায় পৌরসভা নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতি গত ২ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়া করে বিধিমালা তৈরি করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে কমিশন। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর নানা মুখি সমালোচনার ভার সয়তে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে।

সহকারি সচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়) মো. রাজীব আহসান বলেন, চূড়ান্ত বিধিমালার জন্য আমাদের প্রায় সব কার্যক্রম থেমে আছে। বিধিমালা আসতে দেরি হলে কাজের চাপ বেড়ে যাবে। যথা সময়ে নির্বাচন করাও কঠিন হয়ে যাবে। প্রথম বারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় নানা মুখি কাজের চাপ বাড়ছে।

গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে করার প্রস্তাব অনুমোদন করে। অনুমোদিত আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ২ নভেম্বর দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন আইনেও একই ধরনের সংশোধনী আনতে ১১ নভেম্বর সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়।

অধ্যাদেশ ও বিলে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়র, চেয়ারম্যান, সদস্য ও কাউন্সিলর পদে দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাত্র দুই দিন পর সরকারপক্ষ সিদ্ধান্ত বদল করে শুধু মেয়র ও চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে একের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কারণে কমিশনের উপর কাজের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। বার বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কারণে আইনি জটিলতা বাড়ছে।আমাদের সময়.কম