চাপহীন থাকাই সাকিবের সাফল্যের মন্ত্র

যুগবার্তা ডেস্কঃ ২৪ ঘণ্টার ভেতর দুইবার মাইক্রোফোনের সামনে সাকিব আল হাসান। আগের রাতে নাটকীয় জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফাইনালের জন্য অনুশীলনে হাজির বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক।

তার আগে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেলেন, নির্ভার ক্রিকেট খেলেই জিততে চান নিদাহাস ট্রফির শিরোপা।
শুক্রবারের ঘটনাবহুল রাতটা সংবাদকর্মীদের জন্য ছিল অনেক লম্বা। বেশির ভাগই ঘুমুতে গেছেন কাল ভোরের দিকে। দুপুরে তড়িঘড়ি করে ভারতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনে আসার কারণে অনেকের চোখেই ঘুম ঘুম ভাব। বিকেলে সাকিব মাঠে এসে মেঘলা আবহাওয়া দেখে আগে অনুশীলন সেরে তারপর এলেন মাইক্রোফোনের সামনে। ততক্ষণে জানা হয়ে গেছে সাকিবের শাস্তির মাত্রাটাও। তবে এসব নিয়ে মোটেও বিচলিত নন সাকিব, নিচ্ছেন না ফাইনালের জন্য বাড়তি কোনো চাপও, ‘এত কিছু চিন্তা করি নাই। আসলে আমাদের এখনো টিম মিটিংই হয়নি। আমরা এই ম্যাচ (ফাইনাল) নিয়ে এখনো আলোচনাই করিনি।

চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব চাপমুক্ত থাকার। যতটা খোলা মনে থাকা যায়। আমার কাছে মনে হয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খোলা মনে থাকাটা আর চাপমুক্ত থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই আশা করি কেউ কোনো চাপ নেবে না আর মনোযোগটা খেলার দিকেই থাকবে। ’
দীর্ঘদিন আইপিএলে খেলার কল্যাণে ভারতীয় দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাকিবের। সেটা দলীয় কৌশল নির্ধারণের সময় কাজে দেবে বলেই ভরসা দিলেন সাকিব, ‘আসলে এই প্রযুক্তির দিনে এসে সবাই সবার খেলা সম্পর্কে এত জানে যে সব সময়ই পরিকল্পনা করে সফল হওয়া যায় না। তবে অবশ্যই ওদের বিপক্ষে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা থাকবে। আমরাও ওদের অনেক খেলা দেখেছি, ওদের সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে। চেষ্টা থাকবে ওরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এমন কিছু না করার। তবে সব পরিকল্পনা তো আর সফল হয় না, তবে আমার মনে হয় শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা ভালো হলে সেই ছন্দটা ধরে রাখাটা সম্ভব হবে। ’

ফাইনালে টস আর উইকেটের চেয়ে ভালো খেলাটাই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেবে—এমনটাই ধারণা বাংলাদেশ অধিনায়কের, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কে কত ভালো ক্রিকেট খেলে। সত্যি কথা বলতে গেলে, উইকেট দুই ইনিংসেই খুব ভালো থাকে। কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই আগে ব্যাটিং করলে ভালো স্কোর যেন গড়ে তুলতে পারি সেই চেষ্টাই থাকবে। আর যদি পরে ব্যাটিং করি তাহলে চেষ্টা থাকবে ভালো বোলিং করে ওদেরকে কিভাবে একটা মোটামুটি রানের ভেতর আটকে রাখতে পারি। ওদের ব্যাটিংটা অনেক শক্তিশালী, তাই ওদের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে হলে আমাদের সেরা বোলিংটাই করতে হবে। ’

বছর দুই আগে, দেশের মাটিতে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানেই হেরেছিল বাংলাদেশ। একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে হার টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরেও। ভারতের বিপক্ষে এখনো জয় অদেখা বিশ ওভারে ক্রিকেটে। সাকিব মনে করছেন, ওসব চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে খেললেই সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, ‘আমরা তো এখনো এই ব্যাপারটা বুঝতেই পারিনি! এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আলোচনাও হয়নি। তবে মনে হয় না কেউ চাপ হিসেবে নিচ্ছে। চাপ হিসেবে নিলে চাপ, না নিলে চাপ নয়। নিশ্চিত সবাই নির্ভার আছে। এই অবস্থাটা যদি ম্যাচ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারি তাহলে সম্ভাবনা অনেক বেশি। ’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই উঁকি মারে বেঙ্গালুরুর সেই দুঃসহ স্মৃতি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘মারাকানাজো’! সাকিব সেসব কিছু একদমই মনের আয়নায় আসতে দিতে নারাজ, ‘অভিজ্ঞতা বলতে অভিজ্ঞতাই। সেটা সব সময় কাজে লাগবে। আমরা কাল (আজ) কতটা ভালো খেলি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এর চেয়ে বেশি চিন্তার কারণ দেখছি না। ’

টি-টোয়েন্টির মতো সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাই ইতিহাস, অতীত অভিজ্ঞতা—এসবের চাইতে ছন্দে থাকা আর চাপহীনভাবে খোলা মনে ক্রিকেট খেলাটাকেই বড় করে দেখছেন সাকিব, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। একই সঙ্গে এটাও আরেকটি ম্যাচ যেটা আমরা জেতার জন্য মাঠে নামব। যদি মনে করি ফাইনাল, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ, অনেক বড় ম্যাচ, তাহলে চাপ। এগুলো নিয়ে চিন্তা করি না। বলের সঙ্গে ব্যাটের লড়াই হবে, যে ভালো করবে সে-ই জিতবে। ’

দেশ ছাড়ার আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ বলেছিলেন ফাইনালে খেলার কথা। সেই লক্ষ্যে তো পৌঁছেই গেছে বাংলাদেশ, মাঝপথে মাহমুদকে ভারমুক্ত করে নেতৃত্ব নিয়েছেন সাকিব। তাঁর উপস্থিতিই দলকে করেছে উজ্জীবিত, সেই সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতাও দলের জন্য বিরাট প্রাপ্তি। এসেই দলকে জিততে দেখা সাকিবের কাছে অভিজ্ঞতা, ইতিহাস পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাপহীন নির্ভার ক্রিকেট খেলা। কারণ বিশ্বের নানা দেশে টি-টোয়েন্টি খেলা সাকিব ভালো করেই জানেন, এই পর্যায়ে চাপ নেওয়া মানেই যে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া!-কালেরকন্ঠ