চাঞ্চল্যকর অপরাধগুলোর অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার করা হচ্ছে–আইনমন্ত্রী

4

যুগবার্তা ডেস্কঃ বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে (যেমন গুলি করে) এক সেকেন্ডই একজন মানুষকে খুন করা যায় কিন্তু তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় সাজা দিতে একটি সময় লাগে। তিনি বলেন, অত্যন্ত অল্প সময়ে আইনি সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাজন হত্যা মামলার সাজা দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার রায় হয়ে গেছে। আগামী ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় হবে। কিছু দিনের মধ্যেই হাজী রমিজ উদ্দিন স্কুলের দুই শিক্ষার্থীকে বাস চাপায় হত্যা মামলার রায় হবে। তিনি বলেন, এই ধরণের অপরাধগুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার করছে। ঠিক একইভাবে আবরার হত্যা মামলাকে যতটুকু অগ্রাধিকার দিয়ে শেষ করা উচিত ততটুকু অগ্রাধিকার দিবে সরকার। তার কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার চায় না সমাজে এরকম অপরাধ হোক।

আজ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ৩০ বছর পূর্তি ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আবরার হত্যা হত্যাকান্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের সমাজে এটা হওয়া উচিত নয় এবং এটা যাতে আর না হয় সেরকম বিচারিক ব্যবস্থা সরকার নিবে। তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সহযোগিতা চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে নিশ্চয়ই সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। সে যদি মনে করে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা দরকার নিশ্চয়ই সরকার সেটা ভেবে দেখবে।

তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বহুদিন আগে বুয়েটে একজন শিক্ষার্থীর হত্যা করা হয়েছিল তার বিচার কিন্তু আজ পর্যন্ত হয়নি। সেটার দাবীও আপনারা তোলেন। সরকার সে বিচারও করবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে শিশুরাই উন্নয়নের চাবিকাঠি, শিশুরাই জাতি গঠনের মূল ভিত্তি। শিশুদের জীবনে ভালো একটি শুরু তাদের পরিণত বয়সে সমৃদ্ধি বয়ে আনে যার প্রভাব পড়ে পুরো জাতির উপর। অর্থাৎ শিশুদেরকে সমতা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সাড়ে তিন বছরের সরকারে শিশুদের অধিকার, কল্যাণ, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৮৯ সালে ‘শিশু অধিকার সনদ’ গ্রহণ করে। এর অনেক আগেই জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। জাতির পিতা প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ এবং অবৈতনিক ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধে যে সব নারী ক্ষতিগ্রস্থ হন তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য জাতির পিতা বৃত্তি প্রথা চালু করেছিলেন

চাইল্ড পার্লামেন্টের স্পিকার মারিয়াম আক্তার জিম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কামরুন নাহার বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।