চট্রলাবীর মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেই

যুগবার্তা ডেস্কঃ চট্টলবীর প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আর নেই। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে মৃত্যু বরন করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

সম্প্রতি মহিউদ্দিন চৌধুরী বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে আসলে প্রথমে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইদিন আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে বৃহস্পতিবার তাকে ম্যাক্স হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

এদিকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে চট্টগ্রামে শোকের ছায়া
কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত মহিউদ্দিন চৌধুরী নিজ বাসায় মৃদু হার্ট অ্যাটাক হলে গত ১১ নভেম্বর ম্যাক্স হাসপাতালে নেয়া হয়। পরদিন হেলিকপ্টারে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সিঙ্গাপুরের অ্যাপোলো গ্লিনিগ্যালস হসপিটালে মহিউদ্দিনের এনজিওগ্রাম এবং হার্টের দুটি ব্লকে রিঙ বসানো হয়। ১১ দিনের চিকিৎসা শেষে ২৬ নভেম্বর রাতে মহিউদ্দিনকে দেশে এনে আবারও স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

এই অবিসংবাদিত নেতা তিন মেয়াদে দীর্ঘ ১৬ বছর চট্টগ্রামের নগর পিতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে জয়ী হন। ২০০৫ সালে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির একজন মন্ত্রীকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হন।

এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহিউদ্দিন চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদে ছিলেন। চট্টগ্রামে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মহিউদ্দীন চৌধুরী ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচ,এস,সি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হন। এ সময় তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সালে তিনি চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
একাত্তরে মহিউদ্দিন গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। গ্রেপ্তার হন পাকিস্তানি সেনাদের হাতে। বুদ্ধিমত্তার সাথে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্কোয়াডের কমান্ডার নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর তিনি শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত হন। যুবলীগের নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদও তিনি অলংকৃত করেন।

প্রায় দুই যুগ চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার পর ২০০৬ সালের ২৭ জুন সভাপতি হন মহিউদ্দিন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার বাদ আসর ঐতিহাসিক লাল দিঘীর ময়দানে মরহুম মহিউদ্দিন চৌধুরী নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

তার মৃত্যুতে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সিপিবি, বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

অনুরুপ শোক প্রকাশ করেছেন যুগবার্তা সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম সুজন।