ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ চলে গেছে

16

মাহাবুবুর রহমানঃঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশ অতিক্রম করে চলে গেছে।আর আশংকা নেই জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস। আজ ভোরে ফণী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে খুলনা- সাতক্ষিরা সীমান্ত থেকে প্রবেশ করে। ফণী দুর্বল হয়ে পড়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।তবে ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। তাছাড়া আহত হয়েছে প্রায় শতাধীক।এ বিষয় সংবাদকর্মীরা সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামে ঝড়ো হাওয়াসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। বিকেলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জেলার কয়েকটি জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্ধার টিম বিকালের মধ্যেই এসব সরিয়ে ফেলেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী বলেন, আসকার দিঘীরপাড়, চন্দনপুরা, কোতোয়ালী থানার সামনে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সীতাকুন্ডুর ছলিমপুর ও সন্ধীপের সারিকাইতসহ কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত এবং মিরসরাই উপজেলায় তিনটি কাঁচাঘর ধ্বসে পড়েছে।

লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণী’র আঘাতে প্রায় তিন শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। উপকূলীয় রামগতি ও কমলনগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা, টিনসেড ও আধাপাকা ঘর ভেঙে এবং চাল উড়ে গিয়ে আরো ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পর থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে জেলার রামগতিতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ১২০টি কাঁচা, আধাপাকা ও টিনসেডের বসতঘর। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ১৮১টি বসতঘর। তাছাড়া বোরো ধান, সয়াবিন, বাদাম, মুগডাল, মরিচ ও সবজিসহ ৩ হাজার একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরিশাল অফিস জানায়, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে বরগুনা উপকূলে প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এক নাগাড়ে চলে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে আকাশ তুলনামূলকভাবে পরিস্কার হয়ে বৃষ্টিপাত থেমে রয়েছে। ত
এদিকে, জেলার ৩৩৫টি ঘুর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় গ্রহনকারিদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে ঘূর্র্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে জেলার ৮টি উপজেলায় ৬ হাজার ১৮ একর জমির ফসল নষ্ট, ১১ জন আহত,২ হাজার ৯২টি কাঁচা ঘরবাড়ি আশিংক ক্ষতিগ্রস্ত, ১৪৫টি গবাদিপশু নিখোজ ও ১০ কিলোমিটার বেরীবাধ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৫০টি মাছের ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।

বরিশালে আজ তেমন ঝড়বৃষ্টি হয়নি। আকাশ মেঘলা ছিল। তবে ফণীর প্রভাবে গতকাল বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

খুলনা অফিস জানায়ঃ গতকাল থেকে জরো হাওয়া বশে যায়। বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভোরের দিকে দাকোপ থেকে ফণী প্রবেশ করে খুব দুর্বল অবস্থায়।

বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্র বন্দর ছিল উত্তাল। প্রলাবিত হয় অনেক গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি।
সাতক্ষীরা জেলায় শুক্রবার রাত ২টা থেকে ঝড় শুরু হয়। শনিবার সকাল ৬টার দিকে উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড় ফণি। শনিবার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছ। ‘উপকূলীয় এলাকার এক লাখ ৩১ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। ফলে ঘুর্নিঝড় ফণী আঘাত হানলেও জেলার কোথাও এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে গাছপালা ও বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

যশোর অফিস জানায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে যশোর অতিক্রম করেছে ঘূর্র্ণিঝড় ফণী। ফনীর প্রভাবে সকাল থেকেই ঝড়ো হাওয়া ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। আগে থেকেই মানুষ সতর্ক থাকায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জেলায় ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

চাঁদপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে জেলায় শতাধি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলায় মেঘনার পশ্চিম পাড়ের ১৩ নং হানারচরের দুইটি গ্রামে ২০টি ঘর ও ১৪ নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে তিনটি গ্রামে ৫০টি, হাইমচরের ২টি ইউনিয়নে ১৫ টি, মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নে ১০টিসহ তিন উপজেলায় শতাদিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দুইহাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ৬২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৮৩ বান্ডিল টিন মজুদ রাখা হয়েছে। শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসনের কাজ শুরু হবে।

মেহেরপুরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে অনেক ধান ক্ষেত।

গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, ফণীর আঘাতে সকালে ২ টি বিদ্যুৎতের কুটি উপরে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় আজ সকালে।যার কারনে শিল্প অঞ্চল বিদ্যুৎ শূন্য হয়ে পড়েছিল। তবে ঘন্টা দুয়ে পরে বিদ্যতের কিটি স্বাভাবিক করা হয়। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গিয়েছে।

জয়পুরহাট সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ঝূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলার ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনও জানযায়নি।

ঘূর্ণীঝড় ফণী কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, রংপুর, রাজশাহী হয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করে।