ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’: আবহাওয়া স্বাভাবিক

মাহাবুবুর রহমানঃ ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশ অতিক্রম করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।সাগর শান্ত রয়েছে।নতুন করে ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে আজ। এটা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তবে ফণী আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারনের কাজ চলছে। উপকূল অঞ্চলে বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় পানি ঢুকে বিভিন্ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। তাছাড়া আহত হয়েছে প্রায় শতাধীক। এছাড়া গবাদি পশুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, শনিবারের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জেলার কয়েকটি জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। সীতাকুন্ডুর ছলিমপুর ও সন্ধীপের সারিকাইতসহ কয়েকটি এলাকার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত এবং মিরসরাই উপজেলায় তিনটি কাঁচাঘর ধ্বসে পড়েছে।

লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণী’র আঘাতে প্রায় তিন শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। উপকূলীয় রামগতি ও কমলনগরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা, টিনসেড ও আধাপাকা ঘর ভেঙে এবং চাল উড়ে গিয়ে আরো ১৫ জন আহত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে জেলার রামগতিতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ১২০টি কাঁচা, আধাপাকা ও টিনসেডের বসতঘর। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো ১৮১টি বসতঘর। তাছাড়া বোরো ধান, সয়াবিন, বাদাম, মুগডাল, মরিচ ও সবজিসহ ৩ হাজার একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরিশাল অফিস জানায়, বরগুনায় বাধ ভেঙ্গে পানি প্লাবিত হয়েছে। নদী ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারন করেছে।

পটুয়াখালীতে ঘূর্র্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে জেলার ৮টি উপজেলায় ৬ হাজার ১৮ একর জমির ফসল নষ্ট, ১১ জন আহত, ৮ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি আশিংক ক্ষতিগ্রস্ত, ১৪৫টি গবাদিপশু নিখোজ ও ১০ কিলোমিটার বেরীবাধ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৫০টি মাছের ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।

বরিশালে শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

ঝালকাঠীতে ৪ শত ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ভোলায় বাধ ভেঙ্গে গ্রামগুলো প্রবাহিত হয়েছে।ডুবে গেছে ঘরবাড়ি।

খুলনা অফিস জানায়ঃ উপকূল এলাকার বাধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়।

বাগেরহাটের প্রলাবিত হয় অনেক গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি।
সাতক্ষীরায় ৯ কি: মি: বাধ ভেঙ্গে গেছে। গাছপালা ও বেশ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

যশোর অফিস জানায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে যশোর জেলায় ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমির ফসলের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

চাঁদপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে জেলায় শতাধি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলায় মেঘনার পশ্চিম পাড়ের ১৩ নং হানারচরের দুইটি গ্রামে ২০টি ঘর ও ১৪ নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে তিনটি গ্রামে ৫০টি, হাইমচরের ২টি ইউনিয়নে ১৫ টি, মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নে ১০টিসহ তিন উপজেলায় শতাদিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

মেহেরপুরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে অনেক ধান ক্ষেত।

জয়পুরহাট সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ঝূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়েছে। জেলার ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনও জানযায়নি।

গাইবান্ধায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

আজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরসহ অন্য বন্দরে মাল উঠানামার কাজ শুরু হয়েছে।স্থল বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস করা হচ্ছে।

বরিশালসহ সারাদেশে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। ঘূর্ণঝড় ফণীর কারনে গত বৃহস্পতিবার সারাদেশে লঞ্চডহ সকল যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফেরী চলাচলও শুরু হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলেছে, এখন প্রতিনিয়ত তাপমাত্রা ২-৫ ডিগ্রী করে বৃদ্ধি পেতে পারে।যার কারনে প্রচন্ড গরম পরার আশংকা করা হয়েছে।