গ্রামাঞ্চলে জাগরণ সৃষ্টি করে লুটেরাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে–সেলিম

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের ক্ষেতমজুরসহ মেহনতী-দরিদ্র মানুষের জাগরণের মধ্য দিয়েই লুটেরাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। লুটপাটতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্রহীনতা-এই চার বিপদ থেকে দেশকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি। কমরেড সেলিম বলেন, ৬৯’র গণঅভ্যুন্থান এবং সর্বশেষ এরশাদবিরোধী আন্দোলন শহর থেকে শুরু হয়ে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল। সুতরাং শহরাঞ্চলে আন্দোলন দমাতে পারলে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে বলে সরকার মনে করছে। তিনি বলেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে শহরে বিশেষত রাজধানীতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে আন্দোলন সংগ্রাম ˆতরীতে বাধা দিচ্ছে সরকার। তিনি শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের ক্ষেতমজুর, কৃষক সহ সাধারণ মানুষকে অধিকার আদায়ের লড়াই তীব্রতর করার আহবান জানান।

শুক্রবার ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমরেড সেলিম আরও বলেন, মানুষের উন্নয়ন না করে শুধু বড় বড় স্থাপনা করলেই তাকে উন্নয়ন বলা যায় না। দেশের জাতীয় আয় বাড়ছে দেখালেও অন্যদিকে বেকারত্ব বাড়ছে। চুইয়ে পড়া অর্থনীতিতে লুটেরারা সব লুট করে নিচ্ছে। দেশ উনśয়নশীল থেকে স্বল্পোন্নত দেশে রƒপান্তর হয়েছে বললেও প্রকৃত পক্ষে সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা নেই। মাথাপিছু বাৎসরিক আয় দেড় লক্ষ টাকা দেশের বেশিরভাগ মানুষের নেই উলেøখ করে তিনি বলেন, দেশে ধনী-গরিবের ˆবষম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষেতমজুর সহ গরিব মানুষ তীব্র কষ্টে দিনাতিপাত করছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পল্লী রেশনিং চালু, গ্রামীণ বরাদ্দ লুটপাট বন্ধ, ভিজিডি-বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড বিতরণে অনিয়ম দুর্নীত বন্ধের দাবি জানান। সভা থেকে সদস্য সংগ্রহ অভিযান, গ্রাম কমিটি গঠন, ইউনিয়ন ও উপজেলা সম্মেলন সফল করার জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা। রিপোর্টের ওপর আলোচনা করেন সহ-সভাপতি মৃনাল মন্ডল, রফিকুল ইসলাম, সদস্য শাহাবুদ্দিন আহমদ, আনোয়ার হোসেন, মোজাহারুল হক, আশরাফুল আলম, অ্যাড. আবুল হোসেন, মুজিবুল হক, আবুল কালাম, সাহা সন্তোষ, সন্তোষ রায় চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, নজরুল ইসলাম, হাফিজার রহমান দুদু, মাসুম ইবনে শফিক, আলী আক্কাছ, অমৃত বড়ুয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন সাবেক সভাপতি, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামছুজ্জামান সেলিম। সাংগঠনিক ও আন্দোলনগত রিপোর্ট উত্থাপন করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও অর্থ রিপোর্ট পেশ করেন করেন নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম নাদিম।