গৌরনদীতে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার স্ব-পরিবারে আত্মহত্যার হুমকি

বরিশাল অফিসঃ যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূমিহীন ইসমাইল খাঁন (৬৮) তার স্ব-পরিবার নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে ওই মুক্তিযোদ্ধা তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে হাজির হয়ে এ হুমকি প্রদান করেন।
সূত্রমতে, অপর দুই মুক্তিযোদ্ধার সাথে ইসমাইল খাঁনের জমিজমা বিরোধের জেরধরে গত আটমাস ধরে বন্ধ রয়েছে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা। ফলে গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী গ্রামের বাসিন্দা রোগাক্রান্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূমিহীন ইসমাইল খাঁন পরিবার পরিজন নিয়ে অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। উপায়অন্তর না পেয়ে তিনি স্ব-পরিবারে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন।
ওই গ্রামের মৃত গঞ্জর আলী খাঁনের পুত্র ইসমাইল খাঁন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারাদিয়ে আমি ১৯৭১সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯নং সেক্টরে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পায়ে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ভারতের হাসনাবাদে চিকিৎসা গ্রহণ করি। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে আমি পূর্ণরায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। দেশ স্বাধীনের পর সরকারের মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)-০৬০১১০০২৫৪, যুদ্ধাহত গেজেট নং-১৫০১, মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-৩৪২৩, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং-১৩৫২৫ অর্ন্তভূক্ত হই। ফলে দীর্ঘদিন থেকে আমি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা পেয়ে সাত সদস্যর পরিবার নিয়ে কোনমতে খেয়ে পরে জীবন বাঁচিয়েছি। ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খাঁন আরও বলেন, জমিজমার বিরোধের জেরধরে গত বছরের (২০১৫ সালের) প্রথমার্ধে শাহজিরা গ্রামের অপর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল খান ও শাহজাহান হাওলাদারের সাথে তার বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরধরে মোজাম্মেল খান ও শাহজাহান হাওলাদার আমাকে ভূয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে ওই বছরেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ফলে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে গত ডিসেম্বর মাস থেকে আমার ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।
সূত্রে আরও জানা গেছে, পরবর্তীতে বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাকে (ইসমাইল খাঁন) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যুদ্ধকালীন জীবিত কমান্ডার, সহযোদ্ধা ও স্বাক্ষীদের নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রতিটি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যুদ্ধকালীন কমান্ডার, সহযোদ্ধা ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খাঁনের পক্ষে রায় দেয়া হয়। ইসমাইল খাঁন বলেন, এ ব্যাপারে আমি মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টের পরিচালকের সাথে সাক্ষাত করলে তিনি আমার সকল কাগজপত্র পর্যালোচনাসহ যুদ্ধকালীন কমান্ডার, সহযোদ্ধা ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করে আমার পক্ষে রায় দিয়ে বলেন, সাময়িকভাবে বন্ধ ভাতা খুব শীঘ্রই চালু করা হবে। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনেও ভাতা চালু না হওয়ায় সম্প্রতি সময়ে তিনি (ইসমাইল খাঁন) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি’র বরাবরে ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা চালুর দাবিতে’ আবেদন করে সরাসরি দু’বার তার (মন্ত্রী) সাথে সাক্ষাত করেন। দু’বারই মন্ত্রী আবেদনের যাচাই করে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পর গত আট মাসেও মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে বন্ধ ভাতা চালু করা হয়নি। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খাঁন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরেও আবেদন করেছেন