গুনী মানুষের অভাব এবং চোরাগলির সমাজ

আবুল বাশার খানঃআজকে সকাল বেলায় একটা টক শো শুনলাম।বিষয়টা ছিল ”হঠাৎ কেন পদত্যাগ”। সেখানে আলোচকরা যে কথাগুলো বলেছেন তার মূলত ভাবার্থ ছিল গুনী মানুষগুলো মানবসেবা বা জনকল্যান থেকে হারিয়ে যাওয়া।কেউ হারিয়ে যায় প্রকৃতির ডাকে ,আবার কেউ বা হারিয়ে যায় তার রাজনৈতিক আদর্শ ভিত্তিক মিত্রদের কাছ থেকে পৎবধঃরারঃু পরিবর্তনের কিছু জায়গাগুলোতে তাল মিলাতে না পেরে।
আসলে গুনী মানুষ বলতে আমরা কাদের বুঝি? এটা একটা প্রশ্ন। দেখবেন একেকজনে একেক রকমের তার নিজস্ব আঙ্গিকে ব্যাখ্যাটি দিবেন। তবে যাদের ঢ়ৎবংবহঃধনষব পযধৎধপঃবৎ ,পরিচছন্ন মন,যাদের মধ্যে পৎবধঃরারঃু আছে,তবে পরিবরতনশীল এবং যারা কোন কিছুর সাথে আপোষ না করে সমাজ সেবায় নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে এগিয়ে যায় সেই মানুষগুলোকে আজ খুজে পাওয়া যাচেছনা।
আজকে অফিস, আদাল্‌ত,পাড়ায়,মহললায় এবং রাজনীতিতেও গুনী মানুষের উপস্তিতি কম।যার প্রভাব পড়ছে সব জায়গায় এবং সমাজে তৈরী হয়েছে বহু চোরাগলির পথ। সব জায়গায়ই চলছে তাল মেলানোর চেষ্টা।তাল মিলাতে না পারলে তার কপালে ভাত নেই। আমি নিজেও বাক্তিগত ভাবে অনেক গুনী মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছিল।বিশেষ করে তারা অনেকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট থেকে শিক্ষা নিলেও তাদের মধ্যে কোন অহংকার ছিলনা যার কারনে আমাদের মধ্যেও ছিল
প্রাণশক্তিতে ভরপুর আর প্রাণশক্তিতে ভরপুর মানষগুলো মানুষ কৌতুহলী হয়, আগ্রহী হয়, সবসময় কিছু একটা করতে চায়, যেকোনো জিনিসের ভালো দিকটা দেখে প্রথমে, নিজের ভুল/দোষ হলে সেটা স্বীকার নেয় সহজে, অন্যের সফলতা দেখে হিংসা করেনা, সবকিছুর পেছনে ষড়যন্ত্র খুঁজে বেড়ায়না, অন্যরা কী করছে সেটা না ভেবে নিজেই এগিয়ে আসে যেকোনো কাজে, ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকেনা, এবং আশেপাশের সবার মধ্যে নিজের প্রাণশক্তি সঞ্চারিত করে।
আজকে সেই মানুষ গুলোকে খুজে পাচিছনা যার জন্য চিন্তা ও কর্মের যায়গা খুজে পাচিছনা।চেতনা হয়ে যাচছে দিন দিন দুর্বল। এখন একে অন্যকে পিছন থেকে ল্যাং মারার চেষ্টা করে। এর মূল কারন হচেছ সেই আমাদের মাঝে সেই গুনী মানুষ নেই।এখন সবাই তাল দেওয়ায় ব্যস্ত। মানুষ এখন সোজা পথে না যেয়ে চোরাগলির পথ খুজছে এবং সেখানেই তার আত্ততৃপ্তি।
আমি জানি নিজেদের সমালোচনা-দুর্বলতার কথা শুনতে কারোরই ভালো লাগার কথা না। অনেকেই আমার উপরের লেখাগুলো পড়ে আহত হবেন, ক্ষেপে যাবেন, কিংবা একমত হবেননা। কিন্তু আমি আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং চিন্তাভাবনা শেয়ার করলাম এখানে। পছন্দ না হলে সামনে আর পড়ার দরকার নেই, কারণ সামনে আরো থাকতে পারে।
এই পৃথিবী কখনো খারাপ মানুষের খারাপ কর্মের জন্য ধ্বংস হবে না। যারা খারাপ মানুষের খারাপ কর্ম দেখেও কিছু করেনা তাদের জন্যই পৃথিবী ধ্বংস হবে।এটাই সত্য এবং এটাই ঘটবে।
মানুষের কথা তার জ্ঞানের মাপকাঠি । মানুষের রসনাকে তরবারীর সাথে তুলনা করা হয়েছে । কথা দিয়ে একজন মানুষকে হত্যা করা কিংবা জীবন দান করা যায় । মানুষের কথা বলার শক্তি তাকে অন্যান্য জীব থেকে পৃথক করেছে । বুদ্ধিবৃত্তির সাথে বাকশক্তির সমন্বয় মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব ঘোষণা করেছে । কথা বলার সে শক্তিকে অপব্যবহার করে যদি কোন ব্যক্তি নিজের পান্ডিত্য এবং কর্তৃত্ব জাহির করতে গিয়ে লাগামহীনভাবে কি বলছেন তার খেয়াল না রাখেন তবে তাকে কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায় ? এ প্রশ্ন করেই শেষ করছি। -লেখকঃ চাকুরিজীবি, বরিশাল