গুজবে বরখাস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুই স্কুল শিক্ষক!

রাজশাহী অফিসঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রাবেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মহসীন আলী শেখ ব্যক্তিগত কাজে গত সোমবার রাজশাহী শহরে এসেছিলেন। এ দিন ওই স্কুলের এক নারী শিক্ষকও রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন।
ওই শিক্ষকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় রাজশাহী রেলস্টেশন এলাকায় তার মোটরসাইকেলটি আটক করে পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে পুলিশ একটি মামলাও করে। কিন্তু এলাকায় খবর রটে যায়, ওই দুই শিক্ষককে রাজশাহীর একটি হোটেলে আটক করে পুলিশ। এই গুজবের ভিত্তিতে শনিবার স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
এ ঘটনার পর রোববার দুপুরে রাজশাহীর সাংবাদিকদের দারস্থ হন ওই দুই শিক্ষক। সংবাদ সম্মেলন করে তারা তাদের বরখাস্তর আদেশ দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য স্কুলে খবর রটায়, তারা হোটেলে আটক হয়েছেন। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে পুলিশ যে মামলা দিয়েছে তার কাগজপত্রও দেখান শিক্ষক মহসীন আলী শেখ।
রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক মহসীন আলী শেখ বলেন, যে মহলটি এমন গুজব রটিয়েছে, তারাই স্কুলের কিছু শিক্ষক ছাত্রীদেরকে রাস্তায় নামিয়ে তাদের বরখাস্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এরপর একটি তদন্ত উপ-কমিটি গঠন করে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এমন মিথ্যা অভিযোগে সামাজিক মর্যাদা ক্ষণ্ণ হওয়ায় তারা মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম নিশ্চিত করেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় মহসিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। তবে নারীঘটিত কোনো অপরাধে মহসীনকে আটক করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি শুনেছি। এরপর নগরীর সব থানায় খোঁজ নিয়েছি। ওই দিন কোথাও কোনো হোটেলে অভিযান হয়নি। এটি গুজব।’
রহনপুর রাবেয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাওসার আলী জানান, ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকান্ডের কোনো প্রমাণ এখনো তারা পাননি। কিন্তু শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বরখাস্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিলো। ফলে অবস্থা সামাল দিতে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে এটি করা যায়।
প্রধান শিক্ষক বলেন, তদন্তে ওই দুই শিক্ষক দোষী প্রমাণিত না হলে অবশ্যই তাদের বরখাস্তর আদেশ প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তারা কাজেও যোগদান করতে পারবেন।