গার্মেন্টস শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল

যুগবার্তা ডেস্কঃ মালিকের ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদকসহ ১৬ জন নেতাকর্মী ও শ্রমিককে উপরে হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৬ আগষ্ট শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে হামলা চালিয়ে গুরতরভাবে আহত করা হয়েছে বলে সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আহত অনেকে অনেকে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। অন্যদিকে নোবেল বিজয়ী ডঃ মোঃ ইউনুসের মালিকানাধীন গ্রামীন নীট ওয়্যার কর্তৃপক্ষ মিথ্যা অজুহাত দিয়ে ৮১জন শ্রমিককে গত ২ বছর যাবৎ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
হেসং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১৬ নেতাকর্মী ও শ্রমিককে নির্মমভাবে আহত করা এবং ডঃ ইউনুসের গ্রামীন নীট ওয়্যারের ৮১জন শ্রমিককে ২ বছর যাবৎ মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে আজ ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ ও পরে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ফেডারেশনের সভাপতি জনাব আমিরুল হক্ আমিন এর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হামলায় আহত ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মিসেস আরিফা আক্তার, সহ-সভাপতি মিস সাফিয়া পারভীন, সহ- সাধারন সম্পাদক মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ রবিউল চৌধুরী, মিসেস আলেয়া বেগম এবং হেসং ও গ্রামীন নীট ওয়্যারের শ্রমিকবৃন্দ।সংহতি বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য-পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব কামরুল আহসান, আই.বি.সি এর সেক্রেটারী জেনারেল মোঃ তৌহিদুর রহমান, ইউনি গ্লোবাল এর বাংলাদেশ সমন্বয়কারী জনাব মোস্তফা কামাল এবং আই.বি.সি এর কোষাধ্যক্ষ জনাব সালাউদ্দিন স্বপন।
বক্তারা বলেন, “কারখানার নিরাপত্তা এর সনদ জাল করায় হেসং গার্মেন্টস এর সাথে এ্যাকর্ড এবং বায়াররা সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল কারখানা বন্ধ করে বিল্ডিংকে ঝুঁকিমুক্ত অথবা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরন দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়া। কর্তৃপক্ষ তা না করে ৬ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৪ হাজার শ্রমিককে নানা রকম ছল-ছাতুরি করে আগেই চাকুরীচ্যুত করেছে। ২১৬ জন শ্রমিককে এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং শোকজ দিয়ে অদ্যাবধি ঝুলিয়ে রেখেছে। ৬ বার বেতন ভাতা এবং ক্ষতিপূরন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরিশোধ করেনি, বরং শ্রমিকেরা এগুলি পরিশোধের দাবি করায় ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে হামলা চালিয়ে ১৬ জনকে নির্মমভাবে আহত করেছে—যা জঘন্য অপরাধ। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার, বিচার এবং ২১৬ জন শ্রমিকের ক্ষতিপূরনসহ সকল পাওনা পরিশোধ করা হোক”।
বক্তারা অধ্যাপক ইউনুসের কঠোর সমালোচনা করে বলেন তিনি নোবেল বিজয়ী হয়েছেন কিন্তু ৮১ জন শ্রমিকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে ২ বছর যাবত হয়রানি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার। অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে এই ৮১ জন শ্রমিককে ক্ষতিপূরনসহ তাদের সমস্ত পাওনা পরিশোধ করা অথবা বকেয়া-বেতনসহ চাকুরীতে পুনঃবহাল করা উচিত।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে কয়েকশত শ্রমিক প্রেসক্লাব থেকে মশাল মিছিল শুরু করে হাইকোর্ট, তোপখানা রোড, পল্টন হয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে গিয়ে শেষ করে।