গণসমাবেশ নিয়ে পুলিশের টানা হেঁচড়ায় দেশবাসী ক্ষুব্ধ: রিজভী

স্টাফ রিপোটার: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ নিয়ে পুলিশের টানা হেঁচড়ায় দেশবাসী ক্ষুব্ধ। বিএনপি’র মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশের কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য এক পরিকল্পিত নীলনকশায় মেতেছে আওয়ামী সরকার। আজ ৬ ডিসেম্বর এক প্রেস ব্রিফিং এ একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সমাবেশের ভেন্যু নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার দোলাচল তৈরীর পরিস্থিতি সরকারের অসৎ অনাচারের বহিঃপ্রকাশ। সবদেশে সবকালে সমাবেশ আহবানকারীরা সবসময় সেটিকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য শান্তি ও স্থিতির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সমাবেশ জনগণের কাছে বক্তব্য পৌঁছার একটি অন্যতম পদ্ধতি। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার এতটাই গণবিচ্ছিন্ন যে, অসংখ্য মানুষের শব্দে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রে দলমত, চিন্তা নির্বিশেষে সকলের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটি বিশ্বা করেন না, তিনি একদলীয় একমাত্রিক কর্তৃত্ববাদী নিষ্ঠুর শাসনকে রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সেজন্য শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে মানবতার অস্তিত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। বিএনপি’র গণসমাবেশ নিয়ে মিথ্যা প্রশাসনের বাড়াবাড়ি, গুজব রটানো, রঙ চড়িয়ে কথা বলা যেন সরকারেরই মানসিক বৈকল্যের বর্ধিত প্রকাশ।

জনাব রিজভী বলেন, ঢাকার গণসমাবেশকে নিয়ে টালবাহানায় আবারও প্রমাণিত হলো-অগণতান্ত্রিক শক্তির দোসর’রা কখনোই গণতান্ত্রিক শক্তির মিত্র হতে পারে না। বিএনপি’র সাথে অবৈধ সরকার শত্রুতা করতে পারে, কিন্তু তাদেরকে মনে রাখতে হবে বিএনপি’র বন্ধুর সংখ্যা অসংখ্য। জনগণই বিএনপি’র সবচেয়ে বড় বন্ধু। এত ষড়যন্ত্র চক্রান্তের মাঝেও বিএনপি এখনও দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।

এই সাবেক ছাত্রনেতা আরও বলেন, বিএনপি’র গণসমাবেশকে নিয়ে সরকারের কপালে কেন এত দুশ্চিন্তার ভাঁজ ? ওবায়দুল কাদের সাহেব’রা কেন এত বিচলিত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র অভিলাষী নেতারা গণসমাবেশকে নিয়ে বানোয়াট গল্প প্রচারে নেমেছে। আর এই বানোয়াট গল্পকে নিয়ে পুলিশ প্রশাসন অতি উৎসাহী হয়ে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে ‘ক্র্যাকডাউন’ চালাচ্ছে।