গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য আজও লড়াই চলছে

4

ডেস্ক রিপোর্ট: স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের শহীদ তাজুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শহীদ কমরেড তাজুল ইসলাম বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। শহীদ তাজুলের দেখানো পথে আজও তাঁর কমরেডরা গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।
৩৭তম শহীদ তাজুল দিবসে আজ সোমবার পুরানা পল্টনে মুক্তিভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদেনের পর অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কমরেড সেলিম এসব কথা বলেন। এ সময় শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), গণফোরাম, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্ট ফর এনভায়র্ণমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, সাপ্তাহিক একতা, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, সিপিবি’র বিভিন্ন জেলা ও থানা শাখাসমূহ।
উল্লেখ্য, কমরেড তাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠ শেষে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সিদ্ধান্ত অনুসারে শ্রমিকশ্রেণির মুক্তির সংগ্রামকে অগ্রসর করার মহান ব্রত নিয়ে আদমজী মিলে বদলি শ্রমিকের চাকরি নেন। আদমজীতে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তোলার কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ছিলেন সিপিবি’র আদমজী শাখার সম্পাদক ও আদমজী মজদুর ট্রেড ইউনিয়নের নেতা।
১৯৮৪ সালের ১ মার্চ দেশব্যাপী আহূত শিল্প ধর্মঘট ও হরতালের সমর্থনে আগের দিন মধ্যরাতে আদমজী জুটমিল এলাকায় কমরেড তাজুলের নেতৃত্বে শ্রমিকরা প্রচার মিছিল বের করলে, তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের গুন্ডাবাহিনীর হামলায় কমরেড তাজুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক মারাত্মক আহত হন। ১ মার্চ ভোরবেলা গুরুতর আহত অবস্থায় কমরেড তাজুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।