স্পোর্টস ডেস্ক: দিয়াগো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে শোকাহত পুরো বিশ্ব। সেটাই স্বাভাবিক। মারাডোনাকে গত ৫০ বছরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন বলে গণ্য করা হয়।মাত্র ১৬ বছর ১২০ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তার।আর্জেন্টিনার হয়ে ৯১টি ম্যাচে তিনি ৩৪টি গোল করেছেন। চারটি বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেন।তিনি বার্সেলোনা এবং নাপোলির মতো ক্লাবেও খেলেছেন।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৪৯১ ম্যাচে ২৫৯টি গোল করেছিলেন। অল্প বয়সে লোস কাবালিও যুব দলে খেলার সময় তার নৈপুণ্যে ১৩৬ টি ম্যাচে সেই দল অপরাজিত ছিল। এমন নক্ষত্রের পতনে বিশ্ববাসী কাঁদবেই।

ফুটবলের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার হলেও সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাননি ম্যারাডোনা। খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। জীবিকার সন্ধানে তার মা-বাবা কোরিয়েন্তেস রাজ্য থেকে পাড়ি জমিয়ে আসেন লেনাসে। অভাব কাকে বলে ছেলেবেলায় তা হাড়েহাড়ে টের পেয়েছিলেন মারাডোনা। যে কারণে কারও হাতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ-সম্পদ থাকাকে মেনে নিতে পারতেন না।

সাম্যবাদে বিশ্বাসী ছিলেন মারাডোনা। তার প্রিয় বন্ধু ছিলেন কমিউনিস্ট কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো, যিনি পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছিলেন। ম্যারাডোনাও ছিলেন বন্ধু কাস্ত্রোর অনুসারী।

অভাবীদের কষ্ট দেখে একবার ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘খুব ভালো হতো, যদি দুনিয়ায় সাম্য থাকত। যাদের অনেক আছে, তাদের একটু কম থাকত আর যাদের কম আছে তাদের আরেকটু বেশি থাকত।’

ফুটবলবোদ্ধাদের মতে ম্যারাডোনাকে তার দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব আমৃত্যু তাড়া করেছে। যে কারণে সব সময় একটি সুষম বিশ্বের স্বপ্ন দেখেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘দারিদ্র্য খুব খারাপ, খুব কঠিন। এর সব রূপ দেখা হয়ে গেছে আমার। ইচ্ছা করে অনেক কিছু পেতে, কিন্তু সেসব শুধু স্বপ্নেই সম্ভব।’

ম্যারাডোনার হৃদয় ছিল বিশাল। নিজেকে কখনোই ভুলের ঊর্ধ্বে দাবি করেননি তিনি। নিজেকে কখনও পরিশুদ্ধ দাবি না করে বর্ণময় জীবন নিয়ে সরল সব স্বীকারোক্তি দিয়ে গেছেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ম্যারাডোনা। আমি ভুল করি, গোলও করি। কিন্তু আমি সব নিতে পারি। সবার সঙ্গে লড়াই করার মতো যথেষ্ট চওড়া কাঁধ আমার আছে।’

বুধবার এই কিংবদন্তিকে হারাল পৃথিবী। ৬০ বছর বয়সে বুয়েনস আয়ার্সে নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ম্যারাডোনা।