খাদ্য পন্যের রাসায়নিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে

যুগবার্তা ডেস্কঃ রপ্তানির অশুল্ক বাধা কাটাতে সুবিধা বাড়ছে কেমিক্যাল মেট্রোলজির অবকাঠামোর। ফলে খাদ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের রাসায়নিক পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরীক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে যেকোনো পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিল্প ও গবেষণা পরিষদের দেওয়া পরীক্ষা সনদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। এজন্য ‘কেমিক্যাল মেট্রোলজি অবকাঠামো সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ডিআরআইসিএমের কেমিক্যাল মেট্রোলজি অবকাঠামো সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পণ্য উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, পরিবেশ, বাণিজ্য, গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন সহ রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা দূর করা সম্ভব হবে। ফলে বাংলাদেশি পণ্যের বিদেশি বাজারের প্রবেশের পথ সুগম করা এবং উন্মুক্ত বাজার প্রতিযোগিতায় দেশীয় পণ্যের টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা সম্ভব হবে। এছাড়া একই বিষয়ে বিভিন্ন পরীক্ষণাগারের পরীক্ষণের ফলাফলের ভিন্নতা দূর করে দেশের পরীক্ষণাগারগুলোর পরীক্ষণের মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা হবে। বিদেশি পরীক্ষণাগারের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আজকের একনেক বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার একনেকের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো বিদ্যুৎ বিভাগের “বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, কুমিল্লা জোন” প্রকল্প। কুমিল্লার ১৩ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প নিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে খরচ হবে এক হাজার ৪৫৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী কুমিল্লার ৬টি জেলার ১৩টি উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ করতে প্রয়াজনীয় সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা জেলার কুমিল্লা সদর উপজেলা, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও বুড়িচং উপজেলা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলা, আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলা; চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর সদর উপজেলা; নোয়াখালী জেলার মাইজদি উপজেলা, বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা; ফেনী জেলার ফেনী সদর উপজেলা এবং লক্ষীপুর জেলার লক্ষীপুর সদর উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান।

মঙ্গলবারের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একনেক শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।