ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ইডেন কলেজ শাখার সভাপতি সায়মা আফরোজ ও সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর সুমি আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে ছাত্রলগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামে হলে সিট বাণিজ্য, কলেজ ক্যান্টিনগুলোতে চাঁদাবাজি, হলের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির‌্যাতন অভিযোগ উঠে। এবং দীর্ঘদিন ধরে উঠা এই অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের নজরদারিতে নিয়ে আসলেও কখনই কোন কাযকর পদক্ষেপ আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিতে দেখিনি। যার সর্বশেষ ফলাফল গতকালের ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমরা দেখতে পেলাম।

এই সময় ২য় বর্ষ, ৩য় বর্ষ ও মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। গতকালকের ঘটনায় ক্যাম্পাসের যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে এই বর্ষের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ পাচ্ছেনা। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। প্রশাসনের নিরব ভুমিকা ও পরোক্ষ মদদে কলেজের এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। স্বাভাবিকভাবেই কলেজগুলোতে সিট বন্টনের দায়িত্ব প্রশাসনের থাকার কথা থাকলেও আমরা দেখি ছাত্রলীগের দখলদারিত্বের একক আধিপত্য চলছে হলগুলোতে। যেখানে একেকটা ডিপার্টমেন্ট সিট বরাদ্দ পায় ১০-২০ টা, সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ন্ত্রন করে ৫০ এর অধিক সিট! এবং এই সিট বাণিজ্যের টাকার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই দু গ্রুপের কোন্দল।

কলেজগুলোতে কোন ধরনের গনতান্ত্রিক পরিবেশ নেই উল্লেখ করে তারা বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির বক্তব্যে এসেছে তারা কলেজ অধ্যেক্ষের চেয়েও শক্তিশালী। তারা যা চাইবে, তাই হবে, মেরুদণ্ডহীন নতজানু কলেজ প্রশাসনের করার কিছু নেই। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের দক্ষলদারিত্ব ও সিট বানিজ্যে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে ইন্ধন যুগিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে ভীতিকর পরিস্থিতিতির মধ্যে তাদের শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করছে। এটা শুধু ইডেনের চিত্র নয়, এই রকম দখলদারিত্ব ও ভীতির পরিবেশ সবগুলো ক্যাম্পাসেই বিরাজমান।

বিবৃতিতে ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব ও সিট বানিজ্যের সাথে জড়িতদের শাস্তি ও ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।