ক্যানসার প্রতিরোধে চিনির বিকল্প গুড়

7

সারাবিশ্বে চিনিকে ‘সাদা বিষ’ বা ‘হোয়াইট পয়জন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অতিমাত্রায় চিনি গ্রহণ করলে স্থূলতাসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। চিনি সাদা ও সুন্দর করার জন্য হাইড্রোজ অর্থাৎ হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর উপাদান। দীর্ঘদিন ধরে এই উপাদান গ্রহণের ফলে দেখা দিচ্ছে ক্যানসার।সারা বাংলা

আখ থেকে গুড় এবং চিনি দুটোই হয়। কিন্তু চিনি তৈরির প্রক্রিয়ায় অনেক পুষ্টিগুণ হারায়, যা গুড়ের ক্ষেত্রে ঘটে না। গুড়ে ফাইটোকেমিক্যাল ও খনিজ উপাদানসমূহ অক্ষুণ্ণ থাকে।
প্রতি ১০০ গ্রাম আখের গুড় থেকে ১৯০ কিলো ক্যালরি খাদ্য শক্তি, যারা ওজন বাড়াতে চান তাদের জন্য এটি খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। এছাড়া আখের গুড়ে থাকে ভিটামিন বি৬, ফলেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ আরো অনেক মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট।
বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় আখের গুড়ের অনেক ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে-
১.শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ যেমন- এ্যাজমা, ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রতিদিন আখের গুড়ের সাথে তিল মিশিয়ে খাওয়ালে তা এন্টি মাইক্রোবিয়াল এক্টিভিটি বাড়িয়ে রোগীকে অনেকটা আরাম দেয়।
২.ডায়রিয়া বা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আখের গুড়ের শরবত খাওয়ানো যায় কেননা আখের গুড়ে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা ডায়রিয়ার ঘাটতি পূরণ করে। আর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আখের গুড়ের শরবত তাৎক্ষণিক রক্তচাপ কমাতে সহায়ক।
৩.আখের গুড়ে ক্লোরিন আছে যা ঋতুস্রাবের সময় ব্যাথা উপশমকারী ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া আখের গুড় খেলে এন্ডোফিন নিঃসরণ বাড়ে ফলে ঋতুস্রাবকালীন মুড সুইং রোধ হয় শরীর মন ভাল থাকে।
৪.আখের গুড়ে আয়রন ও ফলেট একসঙ্গে থাকে তাই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এটি নিঃসন্দেহে উপকারী।
৫. আখের গুড়ে প্রাকৃতিক পরিষ্কারক উপাদান বা ক্লিনজিং এজেন্ট থাকে যা লিভারকে ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত না ডি-টক্সিফাই করতে সাহায্য করে।
৬.আখের গুড়ের এন্টি ইনফ্ল্যামেটরি ভূমিকা রয়েছে। তাই যাদের গেটে বাত বা জয়েন্ট পেইন আছে, তারা আাদার রসের সঙ্গে আখের গুড় মিশিয়ে খেলে ব্যথা নিরাময় হয়।
৭. এই গুড়ে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা রক্ত পরিষ্কার করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়।
৮. ইউরিন ইনফেকশন এখন একটি অতি পরিচিত সমস্যা। আখের গুড় একট প্রাকৃতিক ডায়উরেটিক যা মুত্রথলির প্রদাহ কমিয়ে মুত্র প্রবাহ ঠিক রাখে ফলে ইউরিন ইনফেকশন হয় না।
এত গুণসম্পন্ন আখের গুড়কে আমরা চিনির বিকল্প হিসেবে নিলে অনেক অপ্রত্যাশিত রোগ ও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত থাকতে পারি।
খেজুরের গুড়
শীতকালে খেজুর গাছ থেকে পাওয়া যায় খেজুরের রস আর এই রস থেকেই তৈরি হয় গুড়। এ গুড়ের প্রতি ১০০ গ্রামে ২৯০ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া এই গুড় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ভাল উৎস। এতে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক ও ভিটামিন বি১২।
খেজুরগুড়ের ঔষধি উপকারিতা গুলো হলো-
১. এতে বেশ ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে যা হাড়ের গঠন ও সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। ১ টেবিল চামচ খেজুরের গুড় ক্যালসিয়ামের দৈনন্দিন চাহিদার আট শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে পারে।
২. খেজুরের গুড়ে থাকা ম্যাগনেসিয়াম দাঁতের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করে।
৩. খেজুরের গুড়ে আয়রন থাকে যা কৈশোরে ও গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা দূর করতে পারে।
৪. কলার পরে পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস বিবেচনা করলে তা হলো খেজুরের গুড়। উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এটি একটি উত্তম খাবার।
৫. এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল রাখে।
৬. খেজুরের গুড় ভিটামিন ই এর উৎস তাই চুলের সুস্থতায় ভূমিকা পালন করে।
এত গুণ যার সেই খেজুরের গুড় আমাদের গ্রামাঞ্চলে পাওয়া যায়। আমরা চাইলে সারা বছর সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারি।
শুধু শীতের পিঠাপুলিতে নয় সারা বছর চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় খেলে রোগমুক্ত থাকা সম্ভবত। তবে যারা বিশেষ কোন রোগ যেমন- ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে আক্রান্ত থেকে থাকেন তবে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণমতো গুড় খেতে পারবেন।