কুবি শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশ মেস ভাড়া মওকুফ, উদ্যোগের প্রশংসা

20

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা শহরে মেসে বসবাসরত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ৪০ শতাংশ মওকুফ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কাজটি করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন জানিয়ে এ উদ্যােগের প্রশংসা করেছেন কুবি শিক্ষার্থীরা। একই কাজের প্রশংসা করে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কোনো উদ্যােগ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা পুরো মেস ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসনকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মেস মালিক-বাড়িওয়ালাদের নিয়ে বৈঠকে বসে।

জেলাপ্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ড. মো: আবু তাহের, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সহকারী প্রক্টর মোঃ রবিউল আলম, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট মোঃ সাদেকুজ্জামান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ।

বৈঠকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসগুলোর মতোই শহরের শিক্ষার্থীদের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল সহ মেস ভাড়া ৪০ শতাংশ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত হয়। একইসাথে এই মেস ভাড়া করোনা পরিস্থিতিতে যখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ তখন থেকে কার্যকর হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলা পর্যন্ত বহাল থাকার সিদ্ধান্ত হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের এ উদ্যােগকে স্বাগত জানিয়ে কুবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন আরজু মুঠোফোনে বলেন,
মেস ভাড়া ৪০ শতাংশ মওকুফ করায় আমরা যে কি পরিমাণে উপকৃত হয়েছি বলে বোঝানো যাবে না। করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের পরিবারের আয় কমে যায়, আবার কারো পরিবারে একেবারে আয় বন্ধ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে পুরো মেস ভাড়া দেয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দায় হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষকে এ কাজের জন্য অভিনন্দন জানাই।

মেসে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুর রসুল বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত,নিন্মবিত্ত পরিবারের । করোনা পরিস্থিতিতে এসব শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া চালানো দায় হয়ে পড়ে। কেননা,শিক্ষার্থীদের টিউশনি কিংবা পার্টটাইম জব করোনার কারণে বন্ধ আছে।

ঢাবির এ শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এরকম উদ্যোগ নিলেও আমাদের ঢাবি এখনো পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তেমন কোনো উদ্যাগ নিতে পারিনি। বিষয়টি হতাশার এবং দুঃখজনক।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল আলিম বলেন আমাদের ভার্সিটির হল না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী মেসে থাকে। করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আমাদের মেস ভাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় উদ্যোগ নিয়ে কমানো হলে উপকৃত হতাম। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এর জোর দাবি জানাই।

মেস ভাড়া ৪০ শতাংশ মওকুফের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিবার্তাকে বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের সুযোগ- সুবিধার কথা ভেবেছি। যখন জানতে পারলাম শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তখন সাথে সাথে উদ্যোগ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, মেস মালিক – বাড়িওয়ালাদের সাথে মিটিং করে করোনাভাইরাসের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেস ভাড়া ৪০ শতাংশ মওকুফ করিয়েছি। শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।