কারাবন্দী চার শ্রমিককে মুক্তি দাও

যুগবার্তা ডেস্কঃ ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো’র ডিস্ট্রিবিউটর জামাল এন্ড কোম্পানির শ্রমিকরা বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে কারাবন্দি চার শ্রমিককে মুক্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়। একই সাথে মালিকের দেয়া মিথ্যা মামলা তুলে নিয়ে শ্রমিকদের উপর সকল জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
ব্রিটিশ-আমেরিকান ট্যোবাকো’র ঠিকা প্রতিষ্ঠান জামাল এন্ড কোম্পানির শ্রমিক মো. হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি শ্রমিক নেতা মাহাবুব আলম, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা প্রকাশ দত্ত, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আহসান হাবিব লাবলু, অধ্যক্ষ দীলিপ ব্যাপারী, শ্রমিক নেতা আক্তার হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল হাশেম কবির, মতিউর রহমান, মঞ্জুর মঈন প্রমুখ।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার, হযরত আলী, সাইফুল ইসলাম সমীর, গোলাম আইউব অভ্র, ছাত্রনেতা জহর লাল রায়, কফিলুদ্দিন শান্ত প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মজুরি, খাবারের টাকাসহ অন্যান্য ভাতা কমিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ করায় শ্রমিকদের উপর নির্মম জুলুম নেমে এসেছে। মালিক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চুরি ও ভাংচুরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত না করে ৪জন শ্রমিককে গ্রেফতার করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে শ্রমিকদের কারাগারে প্রেরণ করেছে। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাকে শ্রমিক ঠকানোর জন্য মালিক-পুলিশ যোগসাজস বলে উল্লেখ করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর কাজ করেও এই শ্রমিকরা ব্রিটিশ-আমেরিকান ট্যোবাকো’র নিজস্ব স্থায়ী কর্মী হতে পারেন নাই। দিনের পর দিন আউট সোর্সিংয়ের নামে শ্রমিকদের নানা পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মজুরি কাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলা দেয়, মজুরি কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা চাইলে মামলা দেয়। শ্রমিকদের কণ্ঠ রোধ করার জন্য মালিক অনেক টাকা ঘুষ দিলেও দুপুরের খাবারের জন্য ২৫ টাকা থেকে এক টাকাও বৃদ্ধি করা হয় না।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে কারাবন্দি ৪ শ্রমিকের মুক্তি, মালিকের দেয়া মিথ্যা মামলা তুলে নেয়া, মজুরি বৃদ্ধি, খাবারের টাকা বৃদ্ধি, জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে উপস্থিত জাতীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আন্দোলনে সর্বাত্মকভাবে শ্রমিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।