কাতার বিশ্বকাপ: নটআউট পর্বে দক্ষিন কোরিয়া

বিদায় নিতে হয়েছে উরুগুয়েকে

ডেস্ক রিপোর্ট: কাতার বিশ্বকাপে দক্ষিন কোরিয়া পর্তুগালকে ২-১ গোলে পরাজিত করায় উরুগুয়েকে টপকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে এশীয় জায়ান্টরা। ঘানাকে ২-০ গোলে হারিয়েও নক আউট পর্ব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে উরুগুয়ে। আজ আল-ওয়াকরাহ’র আল-জানুব স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এইচ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুয়ারেজ ম্যাজিকে পরাজিত হয়েছে ঘানা। তবে এই জয়েও শেষ ষোলতে নাম লেখাতে পারলনা উরুগুয়ে। একই সময় অনুষ্ঠিত আরেক ম্যাচে পর্তুগালকে হারিয়েছে দক্ষিণ কেরারিয়া।
২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের ফুটবল তারকা লুইস সুয়ারেজ ভেঙ্গে দিয়েছিলেন ঘানা সমর্থকদের হৃদয়। কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ মুহুর্তে তার ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবলে হাতছাড়া হয় ঘানার একটি নিশ্চিত জয়।
ঘটনার জেরে সুয়ারেজকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আসামোয়া গায়ান। পরে টাইব্রেকারে ব্লাক স্টার্সদের পরাজিত করে উরুগুয়ে।
আজও ঘানার সামনে খলনায়ক হিসেবে আবির্ভুত হন সেই সুয়ারেজ। ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পরও শেষ ষোলত ঠাই হয়নি ব্লাক স্টার্সদের। ম্যাচে মিডফিল্ডার গিওর্গিয়ান ডি আরাসকায়েটার জোড়া গোলে ভর করে ঘানাকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে উরুগুয়ে। তবে উরুগুয়ের হয়ে দুটি গোলেই বলের যোগান দিয়েছেন সুয়ারেজ।
এবারের আসরের শুরুতে নামের সুবিচার করতে পারেনি উরুগুয়ে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে গোলশুন্য ড্র করার পর পর্তুগালের কাছে পরের ম্যাচে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। তারপরও নক আউটে যাবার ক্ষীণ একটি সম্ভাবনা ছিল দুই বারের বিশ^ চ্যাম্পিয়নদের। আর সেটি হচ্ছে ঘানাকে হারাতে হবে আর গ্রুপের অপর ম্যাচে দক্ষিন কোরিয়ার জয় না পাওয়া। আজ দুটি সমীকরনের একটি অতিক্রম করলেও অপরটিতে পারেনি উরুগুয়ে। ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে বিশ^কাপ জয়ী দলটি আজ যেমন আফ্রিকান জায়ান্ট ঘানাকে পরাজিত করেছে তেমনি গ্রুপের আরেক ম্যাচে পর্তুগালকে ২- ১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে দক্ষিন কোরিয়া। ফলে গ্রুপের রানারআপ হিসেবে শেষ ষোল নিশ্চিত করে দক্ষিন কোরিয়া। ব্যর্থ হয় ২০১০ সালে চতুর্থ স্থান পাওয়া উরুগুয়ে। ২০০২ সালের পর কখনো গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়নি দক্ষিণ আমেরিকান দলটি। আজ দ্বিতীয়বারের মতো সেই পথে হাটতে হলো দলটিকে।
শুরু থেকেই পরস্পরের মধ্যে কিছুটা বৈরি মানষিকতা দেখা যায় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে। এ সময় পেশী শক্তি ব্যবহারের প্রবনতা দেখা যায় তাদের মধ্যে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ফাউলের কারণে ফ্রি কিক পায় ঘানা। হোসে মারিয়া জিমেনেজের ফাউলের কারণে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে অবশ্য গোলের সুযোগ সৃস্টি করতে পারেনি মোহাম্মদ কুদুস।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে ঘানার আন্দ্রে আইয়ু ডি বক্সের লাইন থেকে শট নিলে গোল পোস্টের সামনে থেকে বলটি গ্রীবে নিতে গিয়ে ছুটে যায় উরুগুয়ের গোল রক্ষক সার্জিও রোশের হাত থেকে। ফিরতি বলটি কুদুস শট নিতে গেলে বল বাদ দিয়ে ফের ঝাপিয়ে পড়ে তাকে ফেলে দেন রোশে। ভিএআর চেকে সেটিকে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে আন্দ্রে আইয়ু ডান পায়ের শট ঝাপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দেন গোল রক্ষক সার্জিও রোশে।
ম্যাচের ২৩ মিনিট দারুন একটি আক্রমন রচনা করে উরুগুয়ে। এ সময় ডারউইন নুনেজ বক্সে ঢুকে ঘানার গোল রক্ষককে পাস কাটাতে প্লেসিং শট নেন। বলটি পোস্টে প্রবেশের মুহুর্তে লাইন থেকে শট নিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন ঘানার ডিফেন্ডার মোহাম্মদ সালিসু। কর্নারের বিনিময়ে এই যাত্রায় বেঁচে গেলেও ৩ মিনিট পর ঠিকই গোল হজম করতে হয় ঘানাকে।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার গিওর্গিয়ান ডি আরাসকায়েটা। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া লুইস সুয়ারেজ পোস্টে শট নিলে গোল লাইন পেরিয়ে ঢুকার মুহুর্তে বলটিতে হেড দিয়ে গোল নিশ্চিত করেন তিনি ( ১-০)। এগিয়ে যাবার পরও আক্রমন অব্যাহত রাখে দক্ষিন আমেরিকার দলটি। গোল হজম করে কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়া ঘানার রক্ষনকে আরো চেপে ধরে তারা। সফল পেতেও দেলী হয়নি। ৩২ মিনিটে সেই সুয়ারেজ ডি বক্সের লাইন থেকে বাঁ প্রান্তে বল পাঠালে সেটি ডান পায়ের শটে জালে জড়ান আরাসকায়েটা (২-০)।
এ পর্যায়ে আর কোন পক্ষই গোল করতে পারেনি। ফলে ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় উরুগুয়ে। বিরতির পর ম্যাচের ৬৫ মিনিটে সুলেমানা দারুন একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৮১ মিনিটে গোলের সুযোগ নস্ট করেন সেমেনেও।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে খবর আসে অপর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়লাভ করেছে দক্ষিন কোরিয়া। ফলে শেষ ষোলতে যাবার জন্য উরুগুয়ের প্রয়োজন পড়ে আরো একটি গোলের। পরপর আক্রমন চালিয়েও লক্ষ্য পুরণ করতে পারেনি তারা। শেষ রক্ষা হয়নি উরুগুয়ের। জয়লাভের পরও নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয় উরুগুয়ে। এমন ব্যর্থতায় জার্সিতে মুখ লুকাতে দেখা যায় সাবেক বার্সেলোনা তারকা সুয়ারেজকে।