কাউন্সিলের ভেন্যু নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বিএনপি

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিএনপির কাউন্সিলের জন্য এখনও পর্যন্ত কোন হলের বুকিং নিশ্চিত হয়নি। আউটডোরের একটি স্থানে গণপূর্ত অধিদপ্তর অনুমতি দিলেও বাকি দুটি হল রুমের একটিতেও সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হল ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় বিষয়টি ঝুলে আছে। ইতোমধ্যে গণপুর্ত অধিদপ্তর থেকে সোহরোওয়ার্দী উদ্যোনে বিএনপির কাউন্সিল করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। সব মিলেয়ে কাউন্সিলের ভেন্যু নিয়ে বিএনপি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একটিতে অনুমতি পেলেও সেখানে বিএনপির কাউন্সিলের মূল পর্ব করা সম্ভব হবে না। সেই জন্য একটি ইনডোরের হল লাগবে। বিএনপি চেষ্টা করছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউট ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পেতে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, সোহরোওয়ার্দী উদ্যানে আমাদেরকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে গণপূর্ত থেকে। পুলিশ অনুমিত দিলে তখন নিশ্চিত হওয়া যাবে। কিš‘ সেটা পেলে সেখানে আমরা একটি পর্ব করতে পারবো। কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচী পালন করার যে ভেন্যু দরকার সেটা মিলেনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, সোহরোওয়ার্র্র্র্র্দী উদ্যানে কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হতে পারে। সেখানে কোন ভাবেই কাউন্সিলরদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। একটি খোলা ময়দানে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা যায় না। এই কারণে একটা ইনডোর পেতেই হবে।
কেন সেখানে সম্ভব নয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাউন্সিল অনুষ্ঠানে কুটনীতিকরা থাকবেন, বিভিন্ন ডেলিগেটরা থাকবেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অনেকেই থাকবেন, এছাড়াও আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি আগে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়াও খোলা একটি জায়গায় কাউন্সিলরদের নিয়ে নেতা নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে না। সেটা করতে হলে হল লাগবে। আমরা আশা করি সরকার যত যা কিছুই করুক না কেন অন্তত একটি হল রুম ভাড়া দিবে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও এই ব্যাপারে সমুতি হবে।
এদিকে বিএনপির কাউন্সিল না করতে পারে এই জন্য সরকার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সকলকে সতর্ক থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার কথাও বলেছেন। এই ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট একজন মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে সরকার কাউন্সিল করতে দিবে না এই ধরনের কোন সিদ্ধান্ত সরকারের নেই। তারা তাদের দলের কাউন্সিল করবে, সরকার বাঁধা দিবে না। তবে তাদেরকে হল অনুমতি দেওয়া সহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঢাকার পুলিশ কমিশনার। পুলিশ কমিশনার সার্বিক দিক বিবেচনা করেই অনুমতি দিবে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সরকার বিএনপিকে কাউন্সিল করতে দিবে না এটা বিএনপি অভিযোগ করতে পারে। কিš‘ তা সত্য নয়। তারা কাউন্সিল করতে পারবে কিনা সেটা তাদের বিষয়। তবে আমি যতখানি জানি তাদেরকে অনুমতি না দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সরকার অনুমতি দিবে।
সেটাই যদি হয় তাহলে সোহরোওয়ার্দী উদ্যানে গণপুর্ত অনুমতি দিলো, পুলিশ দিচেছ না কেন?
তিনি বলেন, পুলিশ দিবে না এমনতো বলেনি। তারা নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত বিবেচনা করেই দিবে। তাদেরকেতো সব দিক বিবেচনা করেই কাজ করতে দেয়।
সেটা বুঝলাম বিএনপিতো ইনডোর হল চেয়েছিল সেই দুটি একটি সরকার অনুমতি দিলেই কি ভাল হয় না। এই ব্যাপারে আইনমন্ত্রী বলেন, ইনডোর হলের অনুমতি দিতে পারে।
তার মানে আপনি বলতে চাইছেন যে বিএনপিকে কাউন্সিল করতে দিতে সরকারের তরফ থেকে কোন বাঁধা আসবে না তিনি বলেন, সরকার তাদেরকে স্বাভাবিক কাজ কর্মে ও রাজনৈতিক কর্মসূচীতে বাঁধা কখনো দেয়নি। যখন নিরাপত্তা হীনতার আশঙ্কা ছিল কিংবা তাদের পরিকল্পনা ছিল নাশকতার ঘটনা কিংবা সহিংসতার ঘটনা ঘটাবে তখন অনুমতি দেয়নি। অনুমতি দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই ভাল জানবেন। সেখানে আমি বলতে পারবো না কোন জায়গায় কি ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি বিএনপিকে কাউন্সিল করার জন্য সুযোগ দেওয়া হবে। সরকার দিবে না এমন কোন সিদ্ধান্ত আমার জানা নেই।নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী,আমাদের সময়.কম