কর্মস্থলে ফিরতে পদে পদে চরম ভোগান্তি

10

হাসান মামুনঃ এই ঘাটে নেই কোন যাত্রী ছাউনী, তেমনি নেই কোন পল্টুন কিম্বা সিঁড়ি। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা কর্মজীবী মানুষের দূর্ভোগ কমছেই না। নারীর টানে পিরোজপুরে আসা স্বজনরা ঈদ উৎসব শেষে শহর বন্দর গ্রাম ছেড়ে ৫/৬ দিন পর আজ রোববার কর্মস্থলে ফিরেই অফিস করবেন, এমন বাস্তবতা নিয়েই শুক্র ও শনিবার থেকে শত শত মানুষ নীড় ছেড়ে বিভিন্ন বাহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রওনা হয়েছেন। জেলার হুলারহাট লঞ্চ ঘাট, বেকুটিয়া লঞ্চ ঘাট, তুষখালী, বড় মাছুয়া ভান্ডারিয়া ও কাউখালীসহ বেশ কিছু ঘাট থেকে ঝুঁকি নিয়ে এসব লঞ্চে চড়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। কিন্তু এসব যাত্রীদের কেউই নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় না রেখেই ঠাসাঠাসি করে কয়েকগুন চড়া মূল্যে টিকিট কেটে ভোগান্তি নিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন গন্তব্যে।
কয়েক বছর ধরেই বেকুটিয়া লঞ্চ ঘাটের অবস্থা খুবই দুর্বিসহ। বিআইডবিøইটিসি থেকে এখানে ঘাটের অনুমতি প্রদান করলেও বেশ কয়েক বছর ধরেই কোন পল্টুনের ব্যবস্থা নেয়নি তারা। অথচ এখানের যাত্রীদের কাছ থেকে দশ টাকা হারে টিকিট নেয়া হলেও তাদের জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিক-১ লঞ্চের জন্য কয়েক শত যাত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার কখনও বর্ষা-বাদলে ভিজে কিম্বা মাটিতে বসে লঞ্চ আসার প্রহর গুনছেন। লঞ্চের দেয়া সরু সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় কেউ কেউ নদীতে পড়ে যাবার ঘটনাও ঘটছে সেখানে। ঈদের এ সুযোগকে পূঁজি করে লঞ্চ মালিক ও স্থানীয় ঘাট সুপারভাইজাররা পিরোজপুর-ঢাকা রুটের কেবিন ও ডেকের ভাড়া কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যাত্রীদের সঙ্গেও অসদাচরন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে এ রুটের লঞ্চ যাত্রীরা লঞ্চ কোম্পানির কাছে সম্পূর্ন জিম্মি হয়ে পড়েছেন।