করোনায় বিশ্বে মৃত্যু ৩২ হাজার ১৭৫ জন

26

রফিকুল ইসলাম সুজন: করোনার আক্রমনে দিশেহারা বিশ্ব। বিশ্বের একের পর এক দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। নুতন নুতন দেশ আক্রান্ত হওয়ায় আতংকিত হয়েছে বিশ্ব নেতারা। ইউরোপ ইউনিয়ন সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় আছে। বিশ্ব এখন ২ শ কোটি লোক লকডাউন অবস্থায়। প্রত্যেক ব্যক্তিকে গৃহবন্দি থাকার উপরে জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

চীনের উহান রাজ্যে গত ডিসেম্বরে এই ভাইরাসটির মাধ্যমে আক্রান্ত শুরু হয় সেখানে বসবাসকারীরা। তারপর চীনের অন্য রাজ্য ছাড়িয়ে চলে যায় সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রত্যেক ব্যক্তিকে গৃহবন্দি রাখার উপর নজর দিতে বলেছে।

এখনও এই ভাইরাসের কোন ঔষধ আবিস্কার হয়নি। তবে আজ জাপানের একটি ওষুধ আবিস্কারের দাবি করেছে। এর আগে শুধু মাত্র কিউবা একটি প্রাথমিক পর্যায় ঔষধ আবিস্কার হয়। সেটা দিয়েই চীনে অনেক সফলতা এসেছে। পুরো টিকা আবিস্কারে চেষ্টা চলছে দেশে। আমেরিকা আজ মানব দেহে তাদের আবিস্কারের ঔষধ পরীক্ষা মুলক প্রয়োগ করবে। তাদের আশা সফলতা আসবে। কানাডার একদল বিজ্ঞানীও দাবি করেছে তারা টিকা আবিস্কারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। চীনও অনেক দূর এগিয়েছে বলে দাবি করছে।

কিন্তু তার আগে যা হওয়ার হয়ে গেছে।এ পর্যন্ত ২ শতাধীক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।প্রসারিত হচ্ছে নতুন নতুন দেশে। বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ৭৯৫ জন। সারাবিশ্ব এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজার ১৭৫ জন। সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৬ জন। উৎপত্তি দেশ চীনে মৃত্যু হয় ৩ হাজার ২৯৫ জনের। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ২ হাজার ৩২৮ জন। নিউ ইয়ার্কে ১১ বাংলাদেশি প্রবাসী মারা গেছে। স্পেনে মৃত্যু ৬ হাজার ৬০৬ জন।ইতালীতে মৃত্যু ১০ হাজার ৭৭৯ জন। ইরানে মৃত্যু ২ হাজার ৬২৪ জন। ফ্রান্সে মৃত্যু ১ হাজার ৯৯৫ জন। জার্মানিতে মৃত্যু ৯৫ জন। ভারতে মৃত্যু ২৭ জন। পাকিস্তানে মৃত্যু ৯ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ৪৮জন। বাংলাদেশে মৃত্যু ৫ জন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী রবিন জনসন আক্রান্ত হয়েছেন। হয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীও। এর আগে প্রিন্স চার্লস করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিদেশীদের জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভিসা বৃদ্ধি করছে। দেশটির লন্ডন ও ম্যানচেস্টারেরর সাথে বাংলাদেশ বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ রাজ্য শাটডাউন করে সর্বোচ্চ অবস্থা জারি করা হয়েছে। আমেরিকা ও কানাডা তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত কানাডার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী সোফি সুস্থ হয়েছেন।

ভারত জুড়ে ২১ দিনের লকডাউন চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকল ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। জনসাধারণ নিয়ম ভঙ্গ করলে আইন শৃখলা বাহিনী সচেতনার পাশাপাশি বল প্রয়াগ করছে। জরুরি প্রয়োজনে কেনাকাটার সময় কত দূরত্বে দাড়াবে হবে তার বৃত্ত ঠিক করে দিয়েছে।
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের চারটি গ্রামের ৪০ হাজার লোককে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। ওখানকার একটি ধর্ম সভায় গিয়েছিলেন সবাই। ঐ সভার আয়োজক ধর্মগুরু ইতালী ও জার্মান ভ্রমন করে আসেন। তাকে হোক কোয়ারান্টাইনে থাকার জন্য বলা হলেও শুননি তিনি। ঐ গুরু সমাবেশের আয়োজন করলে চারটি গ্রামের ৪০ হাজার লোক হাজির। কয়েকদিন পর মারা যান ধর্মগুরু।

কুয়েতে প্রতিদিন ১১ কারফিউ জারি করা হয়েছে। মসজিদ বন্ধে করে দিয়েছে। মসজিদে নামাজ নিষিদ্ধ।

কাতারে আজ এক বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে।

সৌদিতে ২১ দিনের জন্য সন্ধ্যা ৭ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত কারফিউ পালিত হচ্ছে। কাবাঘরসহ সকল মসজিদ বন্ধ রয়েছে।

কলোম্বিয়ার কারাগারে করোনা আতংকিত হয়ে দাঙ্গায় নিহত ২৩ জন।

জার্মানি চ্যান্সেলর মেরকেল হোম কোয়ারান্টাইনে গেছেন।

নিউজিল্যান্ডের সকল নাগরিক আইসোলেশনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পুরো দেশ লকডাউন করা হয়।
সরকার বলিভিয়াকে লকডাউন ঘোষনা করেছে আজ।
মিশরে সকল মসজিদ ও গীর্জা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব জায়গায় প্রবেশ নিষেধ।

থাইল্যান্ডে সকল দোকান পাট, বার, হোটেল বন্ধ করা হয়েছে।

বিশ্বে আড়াই কোটি মানুষ চাকুরি হারাচ্ছে বলে ধারনা করছে আলোচকরা।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে ভারতসহ ১০ দেশের সাথে সকল বিমান যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করেছে অভ্যন্তরিক সকল বিমান যোগাযোগ। বাংলাদেশে গনপরিবন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে গনপরিবহণ লকডাউন পালিত হচ্ছে। ২৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে সাধারন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে সেনাবাহিনী নেমেছে। জনসমাগম বন্ধ করতে সেনাবাহিনী কাজ করছে। হোম কোয়ারান্টািনের নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার হচ্ছে।দেশের অনেক এলাকা স্থানীয় প্রশাসন লকডাউন করে দিয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে দোকানপাট। প্রয়োজনে দেশে কারফিউ দেওয়া হবে। এ জন্য মাঠে রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

বিদেশে অবস্থাকারী প্রবাসীদের দেশে প্রবেশে নিষেজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসে পরলে প্রয়োজনে পুশ ব্যাক করার কথা বলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আগত প্রবাসীদের হোম কোরাইন্টাইনে থাকা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। কেউ নির্দেশ না মানলে পুলিশ গিয়া লাল পতাকা টানিয়ে বাহির থেকে তালা বদ্ধ করে দেয়।

আইন শৃখলা বাহিনী রাজধানীসহ জেলা ও উপজেলা শহরে মহড়া দিচ্ছে। একই সাথে মাইকিং করে সচেতন করছে। ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে।