কবি শামসুর রাহমানের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী

স্টাফ রিপোটারঃ বাংলা একাডেমি আজ ১৭ আগস্ট বুধবার সকাল ১১টায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে কবি শামসুর রাহমানের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। শামসুর রাহমানের কবিতা-পাঠ : কবি ও ব্যক্তিকতা শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. শোয়াইব জিবরান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, শামসুর রাহমান স্বাধীনতার কবি; এই স্বাধীনতা যেমন ব্যক্তির তেমনি বাঙালি জাতিগোষ্ঠী এবং গোটা বিশ্ববাসীর। বিপুল কবিতা এবং গদ্যরচনায় শামসুর রাহমান মানুষের ইতিবাচক উত্থানের কথা বলে গেছেন। সংকটে নিজ মস্তক অর্থাৎ বোধ সঠিক রেখে সত্য উচ্চারণ করতে পারেন যিনি, তিনিই সমকাল পেরিয়ে চিরকালের কবিতে পরিণত হন। শামসুর রাহমান সেই চিরদিনের প্রিয় কবি।
অধ্যাপক ড. বায়তুল্লাহ্ কাদেরী বলেন, শামসুর রাহমানের কবিতায় বাংলাদেশের বিবর্তনরেখা ধরা আছে। তাঁর কবিতার নিবিড় পাঠ আমাদের যেন বাংলাদেশের ভূগোলে ভ্রমণ করায়। শামসুর রাহমান এবং তাঁর প্রজন্ম আমাদের কবিতাকে আধুনিকতার গভীর ধারার সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, শামসুর রাহমানের দৃঢ়-কোমল ব্যক্তিসত্তার প্রতিচ্ছায়া আমরা তাঁর কবিতাতে লক্ষ্য করি। তাঁর কবিতায় হৃদয়ের আনন্দিত-বিষাদিত অভিষেক যেমন ঘটে তেমনি জনতার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সংকল্পেও রক্তিম।
অধ্যাপক ড. শোয়াইব জিবরান বলেন, হৃদয়ের গভীর আকুতির সঙ্গে পরিপার্শ্বের ভীষণ কোলাহল শামসুর রাহমানের কবিতায় অপরূপ ব্যাঞ্জনা লাভ করেছে। তাঁর কবিতা যেমন একান্ত পাঠের সামগ্রী তেমনি মাঠে- ময়দানে সমষ্টিক কণ্ঠে উচ্চারণ-উপযোগী হয়ে উঠেছে সর্বত্রগামী।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, শামসুর রাহমান যেন ছিলেন রূপকথার কবি। তিনি তাঁর অসামান্য মেধা ও শ্রমের যুগলবন্দির সম্মিলনে বাংলা কবিতার আয়তন বৃদ্ধি করেছেন। শামসুর রাহমান কবিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসকে ধারণ করেছেন। এদেশের সংকটে-সংগ্রামে শামসুর রাহমান আমাদের কাছে নিত্য-প্রাসঙ্গিক হয়ে বিরাজ করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক কাজী রোমানা আহমেদ সোমা।