কপাল ভিজিয়া গেলো নয়নের জলে

আবুল বাশার খানঃ চলার পথে অনেকেই প্রশ্ন করে আমি কে?আসলেই তো আমি কে? এই মহাশুন্য কিংবা এই জগতে আমি তো কেউ না। আমিহীন দুনিয়া যেহেতু থেমে থাকবেনা সুতরাং আমিও আসলে কেউনা। আমি দুনিয়াতে থাকলেও যা, না থাকলেও তা। সুতরাং আমিও আসলেই কেউ না। তবে আমাদের সবার তো সাময়িক একটা পরিচয় থাকে। নির্দিষ্ট সময় কিংবা মুহুর্তের পরিচয়।তবে আমরা প্রায়শঃ ভুলে যাই-আমরা কোন পথের যাত্রী অথবা কোথায় আমাদের গন্তব্য।
বাংগালীর স্বাধীনতা নিয়ে লিখতে গিয়ে যে স্বাধীনতার কথা খুব মনে পড়ে তা হলোঃ যত্র তত্র মুত্র বিসর্জন। রাস্তার পাশে কিংবা দোকানের চিপায় প্যান্টের চেইন খুলে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে মুত্র বিসর্জনের স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা অনেক আগেই। তারপরে আমরা সেখানে ‘মুত্র বিসর্জন না করার’ উপদেশকে এডিট করে দিয়েছি এভাবেঃ ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন, না করিলে ৫০ টাকা জরিমানা’। অর্থাৎ অর্থই পালটে গেলো। আর তার পাশাপাশি আছে ‘অতি আত্মীয়তোষন’। এই তোষনের একটা মজার ফলাফল দেখলাম মেডিক্যাল পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস। নিজের ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন সুতরাং ছয় লাখ টাকা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সে প্রশ্ন দিয়ে পুত্রের পরীক্ষায় পাশের ফলাফল দাঁত কেলিয়ে সবাইকে জানান দেওয়াও জরুরি হয়েও পড়ে। এখানে সরকার ব্যর্থ এটা আপনি যেভাবে জানেন আমিও সেভাবে জানি। আর সেই পিতা? আপনি কি আমাকে এটা বিশ্বাস করতে বলেন যে একজন উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া ছাত্র ছয় কিংবা সাত লাখ টাকা ঢেলে প্রশ্ন ফাঁস করেছে? সরকার ব্যর্থ আমি একমত। সেই পিতা সফল? হায়রে পিতা। পিতা হওয়া কি এতো সহজ? পিতা শুধু ভাবছে আমার পকেটে টাকা আছে সুতরাং আমার পুত্র শিক্ষা নিবে এই টাকার জোরেই। এতো অশ্লীলতার মাঝেই আমরা আশা করছি অনেক সুন্দর একটা আদর্শ পরিক্ষা পদ্ধতি কিংবা আদর্শ শিক্ষিত সমাজ। যাক আমার ধারনা এখন বাংলাদেশের ঘোর দুশমন মানুষটাও শিক্ষাব্যবস্থায় আরও খারাপ কিছু আশা করেন না।লেখকঃ চাকুরীজীবি, বরিশাল