কথা না শুনলে ইউএনওকে পর্যন্ত জেলে পুরে দেয়া হয়-বরিশালে মির্জা ফখরুল

কল্যান কুমার চন্দ,বরিশালঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামীলীগ সরকারের হাতে এখন সরকারী কর্মকর্তারাও নিরাপদে নেই। নেতাদের কথামতো না চললে কিংবা কথা না শুনলে এখন ইউএনওকে পর্যন্ত জেলে পুরে দেয়া হয়। যার বড় প্রমান বরগুনা সদরের ইউএনও গাজী তারিক সালমান। এ সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাকশালকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে বরিশাল মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের দুইদিনের কর্মসূচীর উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে ফখরুল আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের রেশ ধরে আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেছেন চিকিৎসার জন্য,অথচ তিনি বলেন পালিয়ে গেছেন। বিএনপির নেতা কর্মীরা পালায় না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আওয়ামীলীগের নেতারা কেউ পাকিস্তান কেউ ভারতে পালিয়েছেন। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে থেকেই যুদ্ধ করেছেন। এক এগারোর সময় আওয়ামীলীগের নেতারা আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গিয়ে অবৈধ সরকারকে বৈধতা দেবেন এই মর্মে দেশে ফিরে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করছেন।
ফকরুল বলেন, নিরপেক্ষ ছায়া সরকার ও সকল দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচন হবেনা। সরকার চাচ্ছে সংসদ বহাল রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ন্যায় আরেকটি ভোটার বিহীন নির্বাচন করতে। এবারে সেই সুযোগ আর দেয়া হবেনা। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে আদালতের বারান্দায় রেখে নির্বাচনের প্রচারণা থেকে বাইরে রাখতে। এবার আর সরকারকে সেই সুযোগ দেয়া হবেনা।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহনগর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে উদ্বোধণী সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বেগম সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। মহাসচিবের দুইদিনের কর্মসূচী অনুয়ায়ী মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচীর উদ্বোধণ করা হয়। আজ বুধবার জেলা দক্ষিণ বিএনপির অনুরূপ কর্মসূচী পালিত হবে।##১
আগৈলঝাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ব্রীজ চলাচলের অনুপযোগী
বরিশাল প্রতিনিধি.
আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের পশ্চিম গোয়াইল গ্রামের “মুক্তিযোদ্ধা” বাড়ি হিসেবে পরিচিত সিকদার বাড়ির সামনের জনগুরুত্বপূর্ণ মুক্তিযোদ্ধা ব্রীজটি দীর্ঘদিন থেকে চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে পরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগাজী শিক্ষার্থীসহ ছয় মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ও তার পাশ্ববর্তী এলাকার শতশত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। আয়রন ব্রীজটি সংস্কারের জন্য ভূক্তভোগীরা দীর্ঘদিন থেকে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন সুফল পায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম গোয়াইল গ্রামের “মুক্তিযোদ্ধা” বাড়ি হিসেবে পরিচিত সিকদার বাড়ির ও তার পূর্ব দিকের রাস্তায় যাতায়াতের জন্য খালের ওপর প্রায় বিশ বছর পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়রণ স্ট্রাকচার স্লাবের ব্রীজটি নির্মান করা হয়। দীর্ঘদিনেও ব্রীজটি কোন সংস্কার না করায় স্লাব ভেঙ্গে পরে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ির লোকজনে ব্রীজের ওপর বাঁশের পাটাতন দিয়ে কোন রকমে শিশু শিক্ষার্থীসহ লোকজনের চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
রাজিহার ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ বখতিয়ার সিকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সিকদার বাড়ির ছয় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও লোকজনের চলাচলের জন্য ব্রীজটি নির্মান করা হয়েছিল। নির্মানের পর থেকেই ওই ব্রীজটি “মুক্তিযোদ্ধা ব্রীজ” নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। তিনি আরও বলেন, নির্মানের পর থেকে অদ্যবর্ধি ব্রীজটি কোন সংস্কার না হওয়ায় অধিকাংশ স্লাব ভেঙ্গে ব্রীজটি চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পরেছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্রীজটি দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে একাধিক দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রাজকুমার গাইন জানান, চলাচলের জন্য ওই ব্রীজটি গুরুত্বপর্ণ হলেও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাদের কাছে কোন প্রকল্প দাখিল না করায় তার দপ্তর কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। চেয়ারম্যানকে বলে প্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।