ওই ছবি দেখে মানুষ বাহ্ববা দিয়েছে: জয়া

যুগবার্তা ডেস্কঃ সৃজিত মুখার্জীর সিনেমা ‘রাজকাহিনী’তে বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসানের খোলামেলা অভিনয় ও সংলাপ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। রাজকাহিনী চলচ্চিত্রে টালিগঞ্জের অভিনেতা রুদ্রনীলের সঙ্গে আপত্তিকর দৃশ্যের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে ইউটিউবে। ওই ভিডিও নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় উঠে।
ওই সময় কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে জয়াকে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সানি লিওন। গত ৭ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশের সানি লিওন! দেশ ছাড়ার হুমকি জয়া এহসানকে।’
আনন্দবাজার পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশে জয়ার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।’
এতো দিন পর আবার আনন্দবাজার পত্রিকা বিতর্কিত সেই বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। বুধবার এ নিয়ে জয়া আহসানের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে পত্রিকাটি।
জয়া আহসান বলেন, ‘যারা এটা দেখে এত আপত্তি তুলছে, তারা যদি পুরো সিনেমাটা দেখত তা হলে হয়তো ওই সিনটার মাহাত্ম্য বুঝতে পারত। তবে এটার পাশাপাশি বলছি বাংলাদেশের বহু মানুষ কিন্তু ওই সিন এবং পুরো ছবিটা দেখে আমাকে যথেষ্ট বাহবা দিয়েছেন। আমার কাছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ, সমালোচনার পাশাপাশি।’
তিনি বলেন, ‘রাজকাহিনীতে ভীষণ পাওয়ারফুল ডায়লগ ছিল সেগুলো। তবে আমি মনে মনে খুব পরিষ্কার ছিলাম। অনেক বার স্ক্রিপ্টটা পড়েছিলাম। রিহার্সাল করেছিলাম। আমি মনে করি ওই সিনটার প্রতি ফুল জাস্টিস করতে পেরেছি। আর আমি এখানে সৃজিতকেও কৃতিত্ব দেব, যে ভাবে ও পুরো সিনটা বা ডায়লগগুলো লিখেছিল।
রাজকাহিনীর ওই দৃশ্য নিয়ে হুমকি প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ‘আজকে খোলাখুলি ভাবে সব বলতে চাই। আমার নামে কিন্তু কোনও ফতোয়া জারি করা হয়নি। ওটা ভুল খবর ছিল। তবে প্রচুর বেনামী চিঠি, মইল আর এসএমএস-এ হুমকি এসেছিল সেই সময়। আমি ভয়ও পেয়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কাকে বলব। আমাকে বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রোটেকশন দেওয়া হয়। সেটার জন্য আমি ওদের কাছে কৃতজ্ঞ। যারা হুমকি দিয়েছে তাদের সংখ্যা ক্ষুদ্র। আমার বক্তব্য হল, কোনও জিনিস কারও পছন্দ না হতেই পারে, কিন্তু সেটা নিয়ে তো আলোচনা করা যায়। আমরা তো স্বাধীন, গণতান্ত্রিক দেশে থাকি যেখানে সব রকম মানুষ বাস করেন। সবার মত যে মিলতে হবে, তা তো নয়। ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি-টাই তো মূলমন্ত্র।’
ওই ছবিতে একটি ডায়ালগ নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রশ্নর জাবাবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রী বলেন, ‘যোনি’ বা ‘স্তন’ তো নারীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। সেটা নিয়ে এত রাখঢাকের কী আছে বুঝিনি! আর এখানে আমি আমাদের দর্শকদেরও বলছি, একটা শিল্পকর্মকে বাঁচিয়ে রাখতে, সেটাকে ঠিকঠাক অ্যাপ্রিশিয়েট করার ক্ষেত্রে কিন্তু দর্শকদেরও দায় আছে। তারাও যদি সঠিক পারস্পেকটিভে জিনিসটা দেখেন, তা হলে এ রকম ঝামেলা হয় না।