এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

অন্তু আহমেদ,জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইকোনমিক্স স্টাডি ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
২০১৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে জাতিসংঘ প্রণীত সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) চূড়ান্ত হতে চলেছে। এবার ১৭টি মূল লক্ষ্যমাত্রায় থাকছে দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টিমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যমান অর্জন, মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, নারীর সর্বজনীন ক্ষমতায়ন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ সামুদ্রিক সম্পদ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা।

এসময় প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি’র লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সামর্থ্যবান অগ্রগতি দেখিয়েছে। এবার এসডিজি লক্ষ্যপূরণও সেই শক্তি বা সামর্থ্য দেখানো প্রয়োজন। কিন্তু এবারের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি)-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ব্যাপ্তি ও বহুমাত্রিকতা। এসডিজির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে তাই চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐকমত। কেননা এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন যেমন আছে তেমনি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের স্থিতিশীলতা আনয়নের কর্মসূচিও আছে। এমডিজির সঙ্গে এসডিজির পার্থক্য এখানেই।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এসডিজি লক্ষ্য পূরণ একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দ্বার যেমন উন্মোচিত করেছে ঠিক তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জও হাজির করছে। জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কমানো থেকে শুরু করে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ বিনির্মাণ করা কিংবা সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মতো লক্ষ্যপূরণের লক্ষ্য একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি। রাজনীতির অবস্থা বৈরী থাকলে, রাজনীতিতে বিভাজন ঘৃণার স্তরে দাঁড়ালে এই লক্ষ্য পূরণ প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতির নয়া দিগন্ত যে হাজির হবে তা বলাবাহুল্য।

তিনি আরো বলেন, এসডিজি এক অর্থে বাংলাদেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবেই হাজির হচ্ছে। সে কারণেই এসডিজি লক্ষ্য পূরণে আমাদের প্রয়োজন হবে ঐকমত্যের রাজনীতি। দরকার হবে সমন্বিত উন্নয়ন ভাবনা। রাজনীতির ঐকমত্য আর উন্নয়নের সমন্বয় ঘটলে ২০১৬-২০৩০ মেয়াদে প্রণীত সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (এসডিজি) পূরণে বাংলাদেশ যে বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে সে বিষয়ে কোনো দ্বিধা নেই।

এসডিজি-এর লক্ষ্যমাত্রাসমূহ-

১. সকল প্রকার এবং সর্বত্র বিরাজমান দারিদ্র্য দূরীকরণ। ২. ক্ষুধা দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং পুষ্টির উন্নয়ন ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন। ৩. স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সব বয়সের সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। ৪. সকলকে আওতায় এনে সকলের জন্য ন্যায্যতাভিত্তিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ। ৫. জেন্ডার সমতা অর্জন এবং সকল নারী ও বালিকার ক্ষমতায়ন অর্জন। ৬. সকলের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থাপনা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। ৭. সকলের জন্য সহজলভ্য, সুবিধাজনক, নির্ভরযোগ্য, স্থিতিশীল ও আধুনিক এনার্জি বা বিদ্যুতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৮. স্থিতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ এবং পূর্ণকালীন উৎপাদনমূলক কর্মসংস্থান ও কাজের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা। ৯. মনোরম স্থাপনা নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থিতিশীল শিল্পায়ন এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা। ১০. রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ। ১১. মানব বসতি ও শহরগুলোকে নিরাপদ মনোরম ও স্থিতিশীল রাখা। ১২. উৎপাদন ও ভোগের কাঠামোর স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। ১৩. জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করা। ১৪. টেকসই উন্নয়নের জন্য সাগর, মহাসাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা। ১৫. স্থলভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা, মরুকরণ প্রশমিত করা এবং জমির ক্ষয়রোধকরণ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কমানো। ১৬. শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ বিনির্মাণ ত্বরান্বিতকরণ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, সকল স্তরে কার্যকর, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ১৭. টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণ ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের স্থিতিশীলতা আনয়ন করা।

এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর আইনুল ইসলাম সহ উক্ত সংগঠনটির মডারেটর তাবাসসুম জামান ও কো-মডারেটর জুবায়ের বিন আমির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক আজম খান, তাহমিনা আহমেদ, শামীমা সুলতানা, সোমা ভট্টাচার্য, মাহমুদ হাসান শাহ, নাজনীন জাবিন ও প্রভাষক রবিউল করিম,জিল্লুর রহমান ও কোহিনুর আক্তার সহ বিভাগের শিক্ষার্থীগণ।