এরশাদের বাসবভন নেতাকর্মীদের পাহারা

যুগবার্তা ডেস্কঃ জাতীয় পার্টির গত দুই সপ্তাহের গৃহবিবাদের উত্তাপ ছড়িয়ে পরেছে পার্টির তৃণমূলে। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২২ মার্চ গভীররাতে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর থেকে জাপায় নতুন করে সংকট সৃষ্টি হয়। দল চালাতে ব্যর্থ, সিনিয়র নেতাদের সাথে সমন্বয় না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদ ও পরের দিন বিরোধীদলের উপনেতা থেকে বাদ দেয়া হয় জিএম কাদেরকে। এতে পার্টির সিনিয়র নেতারা খুশি হলেও বেকে বসেন বুহত্তর রংপুরের নেতাকর্মীরা। দুই সপ্তাহ না পেরুতেই রংপুরের নেতাদের চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় কো-চেয়ারম্যানেরর দায়িত্ব দেয়া হয় জিএম কাদেরকে। শনিবার সকালে অপর এক সাংগঠনিক নির্দেশে এরশাদ তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যান হবেন জিএম কাদের এমন এক নির্দেশনা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এরশাদের এ সর্বশেষ নির্দেশনা যাতে আর কেউ পরিবর্তন করতে না পারে সেজন্য শতাধিক নেতাকর্মী দিনভর এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে জাপার সিনিয়র নেতারাও এরশাদের বাসভবন এড়িয়ে চলছেন।

এদিকে, এরশাদের দ্রুত সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের বিষয়ে জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্য বলেন, রংপুরের কয়েকজন নেতাকর্মী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে অনেকটা জিম্মি করে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পূর্ণবহাল করতে বাধ্য করেন। রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির বলেন, বৃহত্তর রংপুরের মাটি ও মানুষ পল্লীবন্ধু এরশাদের প্রানের স্পন্দন। আমরা চাই জাতীয় পার্টি বেচে থাকুক। কিন্তু দলের ভিতর একটি কুচক্রীমহল জিএম কাদেরসহ পার্টির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তাছাড়া আমরা এরশাদকে জিম্মি করি নাই। ষড়যন্ত্রকারীরাই এরশাদকে ভূল বুঝিয়ে পার্টিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা করছেন। এরশাদই আমাদেরকে তার বাসভবনে ডেকেছিলেন।

জাপা সূত্র থেকে জানা যায়, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা না বলে জিএম কাদেরকে পুনর্বহালে ক্ষুব্ধ তার বিরোধীরা। জাপার অপর এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হয়েছে, সংসদে ২২টি আসন পেয়েছে সরকারের সমর্থনেই। কিন্তু জিএম কাদের এ বাস্তবতা মানতে চান না। তাছাড়া জিএম কাদেরকে এখনও আমলাভাব ছাড়তে হবে। তিনি পার্টি চালাতে কারও সহযোগীতাও চাননা। এভাবে দল চলতে পারেনা। জাপা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এ বিষয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় এরশাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলে। আমরা তার সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে জাপার নেতাকর্মীসহ বিভিন্নমহলে জাপার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা থাকলেও পার্টির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের যেকোন সিদ্ধান্তের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। এটা সমালোচনার কিছু আছে বলে আমি মনে করিনা।

এদিকে জাপায় অভ্যন্তরীণ বিরোধের মাঝে হঠাৎ করেই এরশাদের বাসভবন ও বনানী কার্যালয়ে পার্টির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। তারা জটলা বেধে উত্তপ্ত শ্লোগান দিচ্ছেন। সিদ্ধান্ত পরিবর্তণ করতে কোনো নেতা এরশাদের বাসভবনে এলে তাদের প্রতিহত করা হবে বলেও হুমকি দেন তারা। এ বিষয়ে পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, বিগত দুই সপ্তাহ যাবত পার্টির মাঝে ঘাপটি মারা থাকা কুচক্রীরা পার্টিকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছেন। ভেবে দেখতে হবে এদের উৎপত্তি কোথায় থেকে। যারা ষড়যন্ত্র করছেন তারা একসময় বিএনপি থেকে এ পার্টিতে এসেছে। এদের মাঝে কেউ কেউ এরশাদের বুকে ছুরিকাঘাত করে চলে গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। সরকারের কাছে অনুরোধ, সরকারী সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যেনো জাপার ভাঙ্গার মিশনে কেউ যেনো লিপ্ত না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। কারণ অনেকে জাপাকে ভেঙ্গে বিএনপি-জামাত জোটের মিশন বাস্তবায়ন করতে চায়। জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি বলেন, জাতীয় পার্টির সবসময় আগুন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। জিএম কাদের সবসময় সরকারকে এবিষয়ে সহযোগীতা করে আসছে। তাই জাপার মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা ষড়যন্ত্রকারী সরকার ও এরশাদকে ভূল কুঝিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছিলো।

এরআগে, জিএম কাদেরকে কো: চেয়ারম্যানের পদে পূর্ণবহাল করার জন্য বৃহত্তর রংপুরের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারম্যানকে ৫ তারিখ পযর্ন্ত আল্টিমেটাম দেন। এই তারিখের মধ্যে জি এম কাদেরকে কো: চেয়ারম্যানে পদে পূর্ণবহাল না করলে তারা গণ পদত্যাগের হুমকি দেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা সহ বিদেশেও অবস্থনারত জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিএম কাদেরকে কো: চেয়ারম্যানের পদে পূর্ণবহাল করার দাবি জানিয়ে লেখালেখি অব্যাহত রাখে। এদিকে ঢাকায় বিশেষ সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য কোনো ভাবে যাতে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানে পদে পূর্ণবহাল করা না হয় সেজন্য এরশাদকে নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখে। এর মধ্যে গত ৩ এপ্রিল রংপুরের সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে বৃহত্তর রংপুর বিভাগের র্শীষ নেতারা বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের সঙ্গে রুদ্ধধার বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পরদিনই আবারো এরশাদ বৃহত্তর রংপুর সহ সারাদেশের তৃণমুল জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দাবির মুখে আল্টিমেটামের একদিন আগেই জি এম কাদেরকে কো: চোরম্যানের পদে পূর্ণবহাল করেন।