এখনো থামেনি চালকের দৌরাত্য

46

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঢাকার রাজপথে বেপরোয়া বাস চালকদের দৌরাত্য থামছে না। তাদের থামানোর যেন কেউ নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কয়েক দিন রাজধানীতে নিয়ম মেনে গণপরিবহন চললেও এখন সেই আগের অবস্থা। আবারও গণপরিবহন চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা স্বভাবগত ভয়ংকর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। ট্রাফিক সপ্তাহ চলার মধ্যেই চলছে এ ভয়ানক প্রতিযোগিতা। যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানো হচ্ছে। আগের চেহারায় ফিরে গেছে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো। এদিকে, রাজধানীর সড়ক-মহাসড়কসহ অলি-গলিতে মোটরসাইকেল চালকরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সুযোগ পেলেই আইন অমান্য করে ফুটপাত দিয়ে বাইক চালাতে শুরু করেন বেপরোয়া চালকরা। এতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় অনেকে আহত হচ্ছেন। ফুটপাত দিয়ে চলা পথচারীরাও আতĽিত হয়ে পড়েছেন। অনেক সময় নিয়ন্ত্রহীনভাবে চালাতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী আহত হন। এতে তাদেরও প্রাণ যাচ্ছে। দেখা গেছে, বাসচালক থেকে শুরু করে রিকশাচালকরা বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালাচ্ছেন। কার আগে কে যাবে, কে আগে যাত্রী তুলবে সেই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ তৎপর হলেও চালকদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
লোকাল বাসের যাত্রীরা জানান, কোনো কিছুই পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, চালকরা যেভাবে গাড়ি দাঁড় করান তাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাসে উঠতে হয়। স্কুল পোশাক পরা বেশ কয়েক জন শিক্ষার্থী জানায়, আগেও ঝুঁকি নিয়ে গণপরিবহনে উঠতে হতো। আর আন্দোলনের পর এখন বাসে উঠতেই ভয় করে। চালক ও হেলপাররা বাঁকা চোখে তাকায়। হেলপাররা মাঝেমধ্যে তুই-তোকারি ব্যবহার করে। বিআরটিসি বাসগুলোর চালকদের বেপরোয়া ভাব একটু বেশি দেখা যায়। চৌরাস্তালোতে যাতায়াতের নির্ধারিত জেব্রাক্রসিং থাকলেও পথচারীরা সড়ক পার হচ্ছিলেন ইচ্ছেমতো। জেব্রাক্রসিংয়ের ওপর যত্রতত্র গাড়িও
দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম হলেও চলছে ভয়ংকর প্রতিযোগিতা। যাত্রীদের ভাষ্য, কোনো চালকই আইন মানছে না। আগের স্টাইলেই চলছে গণপরিবহনগুলো। একজন বাস চালক গণমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীতে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই বাস চালাতে হয়। প্রতিযোগিতা ছাড়া এখানে টিকে থাকা যায় না। স্পেশাল সার্ভিসের এক হেলপার জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এখন আমাদের বাসে চড়ছে। অথচ তাদের জন্য আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ৫-৬ দিন বাস চালাতে পারিনি। এ সময় এ হেলপারের চোখেমুখে আক্রোশের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠে। এক পরিবহন নেতা বলেন, পরিবহন মালিকরা খুবই প্রভাবশালী। অধিকাংশ চালক রোজভিত্তিতে গাড়ি চালান। এ কারণে বেশি টাকা তুলতে চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এছাড়া শ্রমিকদের বেপরোয়া মনোভাব তো আছেই। প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে তাদের মধ্যে সচেতনতাবোধটাও কম। তিনি বলেন, হাজার হাজার চালকের জাল লাইসেন্স থাকলেও কাউকে আইনের আওতায় আনা হয় না।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীতে অধিকাংশ বাইক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। আবার রেজিস্ট্রেশন থাকলেও অনেকের মেয়াদোত্তীর্ণ। এক শ্রেণীর উঠতি বয়সী বাইক চালক প্রতিযোগিতামূলক চালাতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।