একনেকে দশ প্রকল্প অনুমোদন

4

ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দুইটি প্রকল্পসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট দশটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ১৪ হাজার ৪০১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে ১ হাজার ৮৮১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সভাকক্ষে একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন,‘ করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে একনেক সভা না হলেও গুরুত্ব বিবেচনায় চারটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুইটি প্রকল্প ছিল করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা সংক্রান্ত। আর অন্য দুইটি ছিল প্রাথমিক উপবৃত্তি ও মসজিদভিত্তিক শিশু শিক্ষা সংক্রান্ত। আজ একনেক সভায় এই চারটি প্রকল্প কোন পরিবর্তন ছ্ড়াাই অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’
তিনি জানান,করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় নেয়া দুই প্রকল্প হলো-কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্প,যার ব্যয় হবে ১ হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্প,যা বাস্তবায়নে খরচ হবে ব্যয় ১ হাজার ৩৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন,এই দুই প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানো ও প্রত্যেক জেলার হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ’্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হলো-দেশের ১৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দেয়া। প্রকল্পের আওতায় পিসিআর মেশিন কেনাসহ পিসিআর ল্যাব স্থাপন, আইসিইউ স্থাপন এবং পিপিই ও মাস্ক কেনা হবে। এছাড়া কমপক্ষে ১৯টি পরীক্ষাগারের সক্ষমতা এবং গুণমানকে কোভিড-১৯ মাইক্রোবায়োালজিকাল ডায়াগনস্টিক সুবিধা দিয়ে উন্নত করা হবে।
অবকাঠামো উন্নয়নে পাশাপাশি ৩ হাজার ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগকেও উৎসাহিত করা হবে।
প্রকল্প ব্যয়ের ৮৫০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিশ^ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ দেবে। বাকী ২৭৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে।
কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্পের আওতায় করোনা আক্রান্ত রোগি সনাক্ত করতে নির্বাচিত হাসপাতালে টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো,করোনা চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জাম কেনা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্প ব্যায়ের ৮৪৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সহজশর্তে ঋণ দিচ্ছে, বাকী ৫১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করবে।
বিশেষ বিবেচনার অন্য দুই প্রকল্প হলো- ৬ হাজার ৮৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়,দ্বিতীয় সংশোধিত) এবং ৩ হাজার ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (সপ্তম পর্যায়)।
এছাড়া একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর,খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) সংশোধিত প্রকল্প, এর ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা,ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) সংশোধিত প্রকল্প, যার ব্যয় ১ হাজার ২৩৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, কৃষি যন্ত্রপাতি ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও লাভজনক করা, এতে ব্যয় হবে ৫৬ কোটি টাকা। মানসম্মত মসলা বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার ১, ২, ৬-৮ এবং ৬-৮-এর (এক্সটেনশন) নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যয় ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত),ব্যয় ৩৯৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রাণঘাতী করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফাান মোকাবেলায় সাফল্যে বিশ^খ্যাত সাময়িকী ফোর্বস ও জাতিসংঘের মহাসচিব প্রশংসাসূচক স্বীকৃতি দেয়ায় একনেক সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয়।