একজন পীর হাবিবুর রহমান ও তাঁর মর্মবেদনা –

সাইফুল ইসলাম শিশিরঃ শুরুতেই বলে রাখা ভালো স্বনামধন্য সাংবাদিক, কলামিস্ট, টিভি ব্যক্তিত্ব Peer Habibur Rahmanকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি-জানি। তাঁর সাহসী উচ্চারণ সবাইকে মুগ্ধ করে, সাহস ও অনুপ্রেরণা যোগায়।

সম্প্রতি শমী কায়সারকে নিয়ে ফেবুতে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট আমাকে ভাবায়। পীর হাবিবুর রহমান যখন বলেন “এই পেশাটা যদি ছেড়ে দিতে পারতাম। কতটা পচে গেছি আমরা! কতটা বোধহীন মৃত! তাও বুঝিনা!”

কথার মধ্যদিয়ে বেরিয়ে এসেছে শমী কায়সাররা কতটা ধরা-ছোয়ার বাইরে চলে গেছে। সতীর্থরাও ইতোমধ্যে জেনে গেছে “রুটির কোন দিকে মাখন লাগানো আছে।” তাই প্রতিবাদের ভাষা ঘুঘু চরা ভিটা, যেন এক বিরান ভূমি। অথচ কী নিদারুণ শক্তিতে বলীয়ান প্রতিবাদ- প্রতিরোধে উত্তাল, উজ্জ্বল, আশাভরসার স্থল, সাংবাদিক সমাজ। আজ “বোধহীন মৃত”! তবে কি পীর হাবিবুর রহমান সাহেব সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো বিস্ময়ে হতবাক – আশাহত!!

একদা আফগানিস্তানের দুর্গম গিরিপথের যাত্রী সৈয়দ মুজতবা আলী। এঁকেবেঁকে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে বাস উঠছে – নামছে, চলেছে। জানালা দিয়ে নিচে তাকালে ভয়ে গা শিরশির করে উঠে। একটু অসতর্কতা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা। মাঝে মধ্যে গাড়ি সামনা সামনি পড়ছে। জানালা দিয়ে এক ড্রাইভার অন্য ড্রাইভারের সাথে হ্যান্ডশেক করছে। ইয়ার – -।

পথিমধ্যে যাত্রা বিরতি। মুজতবা আলী ড্রাইভারের কাছে অসীম কৃতজ্ঞতায় জানতে চাইলেন, ঢাল বেয়ে নামার পথে হঠাৎ সামনে গাড়ি চলে এলে তখন কী ভাবে সামলান? “কী আর করা! চোখ বুঁজি – ব্রেক করি”। বিস্ময়ে হতবাক! যার প্রতি এত আস্থা সেই কিনা বিপদ দেখলে চোখ বুঁজে ব্রেক করে!!!

মরুভূমির উটও ঝড় দেখলে বালির মধ্যে মুখ লুকায়।-লেখকঃ একজন সমাজকর্মী।