উন্নয়ন কাজে বিলম্ব নাগরিক দুর্ভোগ

যুগবার্তা ডেস্কঃ নাগরিকদের প্রয়োজনে নগরীর উন্নয়ন কাজ হবে এটাই স্বাভাবিক। সেই কাজের কারণে নগরবাসীকে যদি দীর্ঘ মেয়াদে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। গত কয়েক মাস ধরেই রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চলছে ড্রেনের উন্নয়ন কাজ। কিন্তু সেই ড্রেন নির্মাণের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করলেও সেই রাস্তা সংস্কারের কাজ যেন শুরুই হচ্ছে না। তবে নাগরিকরা কাজের এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য নগর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারদের দায়ী করছেন। নগর কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ থাকে ৯ মাস। সেই সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। এতে নগর কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি নেই। নগরবিদরা বলছেন, উন্নয়ন কাজে ধীরগতি নাগরিকদের বিড়ম্বনা আরও বাড়াবে। অল্প কিছু দিন পরেই বৃষ্টির মৌসুম। ফলে দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না নাগরিকদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরানা পল্টন লাইন এলাকার ভেতরের সড়কে নতুন করে গর্ত করে বড় পাইপ বসানো হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তা খুঁড়ে ড্রেনের পাইপ বসানোর কাজ শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে। কিন্তু সড়কের সংস্কার কাজ হয়নি। এসব রাস্তা দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, মোটরসাইকেলও চলা দায়। শুধু পল্টন কিংবা বিজয়নগরে এই চিত্র নয়, একই চিত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটির অনেক এলাকায়।

ঢাকা উত্তর সিটির তেজগাঁও পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজের পর দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না রাস্তা। সড়ক উচুঁ নিচু হওয়ায় এ এলাকার বাসিন্দারা গাড়ি কিংবা অন্য যানবাহন নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন না। একই চিত্র রাজধানীর মনিপুরী পাড়ায়। গভীর গর্ত করে ফেলে রাখা হয়েছে পাইপ। ডিসেম্বরে কাজ শুরু হলেও পাইপ বসানো এখনও শেষ হয়নি। দুই পাশে উঁচু করে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। মধ্যখানে গভীর গর্ত। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাফেরা করতে হয় শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে। রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন সেকশন, বনশ্রী, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, খিলগাঁও, নতুনবাজার, ভাটারাসহ অধিকাংশ এলাকায় চলছে ড্রেন নির্মাণের উন্নয়ন কাজ। রাজধানীর মণিপুরী পাড়া ৬ নং এলাকার বাসিন্দা শাহীন বলেন, এ দুর্ভোগের শেষ হবে কবে? ৫-৬ জন লোক দিয়ে কাজ চলছে। ফলে একমাসে ছোট একটি রাস্তার ৩ ভাগের একভাগ কাজও শেষ হয়নি। পুরানা পল্টন এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা বলেন, রাস্তা দিয়ে হেটে চলাই দায়। এর শেষ যে কবে হবে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৫) আশরাফুল ইসলাম বলেন, কত দিনে কাজ শেষ হবে, এটা প্রকল্পের কাজের ওপর নির্ভর করে। সরকার ও সিটি করপোরেশনের দুইটা প্রকল্পের কাজ চলছে। সর্বোচ্চ ৯ মাস পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের মেয়াদ রয়েছে।-ইত্তেফাক