উন্নয়নকাজে ৫ কোটি করে পাবেন এমপিরা

আরিফুর রহমানঃ আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরেই উন্নয়ন বাজেট দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়াচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহার তথা গ্রামকে শহর বানানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

আসছে বাজেটে পদ্মা সেতু, পদ্মা রেল সংযোগ সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পে বেশি টাকা বরাদ্দ থাকছে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ওই সব প্রকল্পের কাজ মানুষের সামনে দৃশ্যমান করার তাগিদ রয়েছে সরকারের।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপির আকার হবে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের এডিপির চেয়ে ২১.৩৯ শতাংশ বা ৩৫ হাজার ৭২১ কোটি টাকা বেশি। ওই অর্থের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। বাকি ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এডিপির আকার ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

সেই টাকা ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের চাহিদামাফিক বরাদ্দ দিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের বাজেটে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ শিরোনামে একটি নতুন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ওই কর্মসূচির আওতায় গ্রামের কাঁচা রাস্তা পাকা করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে সরকারের। নতুন যাঁরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের এলাকার উন্নয়নের জন্যও একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে একজন সংসদ সদস্য ২৫ কোটি টাকা পাবেন। সে ক্ষেত্রে একেকজন প্রতিবছর পাঁচ কোটি টাকা করে পাবেন নিজ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য।

সূত্র মতে, আসছে বাজেটে পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পদ্মা রেল সংযোগ সেতুসহ পদ্মা সেতুর কথা বিবেচনা করে এই খাতে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে ভৌত ও পরিকল্পনা, পানি ও গৃহায়ণ খাতে। আগামী ৮ মে পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। চলতি মাসের মাঝামাঝি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন দেওয়া হবে আসছে বাজেটের এডিপি।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন বলেন, বর্তমান সরকারের এই মেয়াদে অনেক নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক চাহিদা আছে। এ ছাড়া বর্তমান সরকার গ্রামকে শহরের মতো বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী অর্থবছরে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ। এ ছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নেরও তাগিদ রয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় এডিপির আকার দুই লাখ কোটি টাকা ছাড়াচ্ছে।

আসছে বাজেটে দুই লাখ ৫৩ হাজার ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে চাওয়া হয়েছিল এক লাখ ৮০ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। বাকি ৭২ হাজার ২৪ কোটি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার সীমা নির্ধারণ করে দেয় পরিকল্পনা কমিশনকে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, আসছে অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ মোট প্রকল্প ঢুকছে এক হাজার ৩৪৬টি। এ ছাড়া বরাদ্দহীনভাবে নতুন প্রকল্প ঢুকছে এক হাজার ৩২৪টি। ওই সব প্রকল্প অনুমোদন পাবে আগামী ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায়। আসছে অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ৭৮টি প্রকল্প রাখা হচ্ছে এডিপিতে। এ ছাড়া নতুন অর্থবছরের মধ্যে শেষ করার জন্য প্রকল্প থাকছে ৪৪৬টি।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিবছরই এডিপির আকার বাড়ানো হয়। কিন্তু বছর শেষে দেখা যায়, ওই টাকা খরচ করতে পারে না মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে তা করা হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। আগামী বাজেটেও একই চিত্র দেখা যাবে বলে এখনই আভাস দেন ওই কর্মকর্তা।-কালেরকন্ঠ