উত্তাপ আছে হাউস ও সিনেট নির্বাচনেও

7

নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) সংবাদদাতা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয় কংগ্রেস নির্বাচনের বিষয়টি। জনতার চায়ের টেবিলে এই আলোচনা তেমন একটা না থাকলেও নিজ নিজ দলের ভেতরে ঠিকই উত্তাপ ছড়াচ্ছে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার এই লড়াই। এমন অনেক উদারহরণ আছে- প্রেসিডেন্ট হয়েও বড় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি শুধু হাউস ও সিনেটে নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায়। এজন্য আসন্ন ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রধান দুই দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো সমান তালে পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা তথা পার্লামেন্টকে বলা হয় কংগ্রেস। দুই কক্ষবিশিষ্ট এই আইনসভার নিম্নকক্ষকে বলা হয় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ। উচ্চকক্ষকে বলা হয় সিনেট। হাউসের সদস্যরা নির্বাচিত হন দুই বছরের জন্য। সিনেট সদস্যদের মেয়াদ ছয় বছর। সিনেট নির্বাচনটি তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে প্রতি দুই বছর পর পর এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়।

দেশটির সিনেট ও হাউস সদস্য কিভাবে নির্ধারিত হয়? ওয়াশিংটন ডিসি নির্বাচনে কোনো স্টেট নয়। ফলে সারা দেশে ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একশত জন সিনেটর। একটি স্টেটে জনসংখ্যা যা-ই হোক সিনেটর দুজন করে। হাউসের সদস্য হয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে। এই কারণে পৃথক অঙ্গরাজ্যে হাউজের সংখ্যায় তারতম্য ঘটে। যেমন- ইয়াওমিং রাজ্যে হাউস সদস্য মাত্র একজন। অন্যদিকে ক্যালফোর্নিয়ায় ৫৩ জন এবং নিউইয়র্কে ২৭ জন।

হাউসে ৪৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে প্রয়োজন হয় ২১৮টি। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৩২টি আসন নিয়ে হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলে পরিণত হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের বর্তমান আসন ১৯৭টি। ফলে এই দূরত্ব ঘুচিয়ে হাউসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠাকে সহজ মনে করছেন না বিশ্লেষকগণ। সিনেটে ১০০টি আসনের মধ্যে এখন ৫৩টি রিপাবলিকানদের দখলে। ৪৭ জন সিনেটর ডেমোক্র্যাট। এবার ৩৫টি আসনে সিনেটে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ২৩টি রিপাবলিকানদের আসন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষের দিকে বিচারপতি এন্টোনিন স্কেলিয়ার মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টের একটি পদ শূন্য হয়। কিন্তু সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিচারপতি ম্যারিক গারল্যান্ডকে ওই পদে মনোনয়ন দিয়েও চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়ে যেতে পারেননি ওবামা। পরে ক্ষমতায় এসে সেই সুযোগ কাজে লাগান ট্রাম্প। এমনিভাবে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনসহ অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়নি ওবামার পক্ষে। ফলে দুই দলই এবার কংগ্রেসের দিকে নজর দিয়েছে।

বিভিন্ন জরিপে ১২টি আসনে বদলের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য নিজেদের সব আসন ধরে রেখে অতিরিক্ত চারটিতে বিজয়ী হতে হবে ডেমোক্র্যাটদের। তবে শর্ত থাকে প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তার ওপর! নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে স্পিকার নির্বাচিত হয়। আর সিনেটের প্রধান দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রশ্ন আসে- যদি দুই দল ৫০টি করে আসন পায় সিনেটে, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নির্বাচিত হবে কীভাবে? তখন ভাইস প্রেসিডেন্টের দল হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ হোসেন মনে করেন, এবার ট্রাম্প যদি বিজয়ী হন, তাহলে খুব অল্প ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট হবেন। আর বাইডেন বিজয়ী হলে বড় ব্যবধানে হবেন। সে ক্ষেত্রে হাউসের পাশাপাশি সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের বিজয় দেখছেন এই বিশ্লেষক। গর্ভপাতবিরোধী বিচারককে সুপ্রিম কোর্টে মনোনয়ন দেওয়া, করোনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতাসহ নানা কারণে এবার রেড স্টেটের নারী ভোটাররাও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেবেন বলে তার ধারণা।সমকাল