উজিরপুরে বাল্য বিবাহের হিড়িক

25

উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুরে সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একের পর এক বাল্য বিবাহ পড়িয়ে যাচ্ছেন নিকাহ রেজিষ্টার কাজী সোহেল। বিবাহের রেজিষ্টার নকল (কাবিননামা) চাইতে গেলে শুরু করেন তালবাহানা। এ ব্যাপারে জেলা রেজিষ্টারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শোলক ইউনিয়ন নিকাহ রেজিষ্টার মোঃ নুরুল আমিন সোহেল চলতি বছরের ২৬ মে পার্শ্ববর্তী বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বড়ভৌৎসর গ্রামের মৃত মোঃ ইউনুস মোল্লার ছেলে মোঃ জিয়াউল হাসান জুয়েলের নিকট একই গ্রামের মোহিন আকন এর মেয়ে মারিয়া আক্তার বুশরা(১৬) এর বাল্য বিবাহ সম্পাদন করেন।
একটি সূত্রে জানা যায়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উজিরপুরের শোলক ইউনিয়ন নিকাহ রেজিষ্টার নুরুল আমিন সোহেল বানারীপাড়ায় কনের বাড়িতে বাল্য বিবাহ পড়ান। অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, মারিয়া আক্তার বুশরার ইতিপূর্বেও বিবাহ ছিল। কিন্তু সেখানে তালাকপ্রাপ্ত না হয়েও পুনরায় কাজী সোহেলের মাধ্যমে বহু বিবাহের নায়ক জুয়েল এর সাথে বিবাহ হয়। এমনকি পূর্বের স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা করে মারিয়া আক্তার বুশরা। সে মামলায় তার চাচাত বোন মারজানা ইয়াসমিনকে ২ নম্বর আসামী করে। এ কারণে তার বাবা মোঃ মিজানুর রহমান তার মেয়েকে মামলা থেকে অব্যাহতি নেয়ার জন্য নিকাহ রেজিষ্টার কাজী সোহেলের নিকট বিবাহের রেজিষ্টারের নকল চাইতে গেলে তিনি তালবাহানা শুরু করেন। এ ব্যাপারে মারজানা ইয়াসমিনের বাবা মোঃ মিজানুর রহমান বিবাহের রেজিষ্টার নকল (কাবিননামা) প্রাপ্তির জন্য বাদী হয়ে শোলক ইউনিয়নের নিকাহ রেজিষ্টার মোঃ নুরুল আমিন সোহেলের বিরুদ্ধে জেলা রেজিষ্টারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ছাড়াও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পশ্চিম ধামুরা গ্রামের নুরুল ইসলাম দাহারিয়ার মেয়ে তুলি আক্তার (১৬) কে বাহেরঘাট গ্রামের রুবেল চৌধুরীর সাথে বাল্য বিবাহ পড়ান। কাজী সোহেল সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে আইনকে উপেক্ষা করে একের পর এক বাল্য বিবাহ পড়িয়ে যাচ্ছেন। যেন দেখার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে নিকাহ রেজিষ্টার কাজী নুরুল আমিন সোহেল জানান আমি তাদের বিবাহ পরিয়েছি। তবে মেয়ের চাচা কাবিন নামা চাওয়ার এখতিয়ার রাখেনা। কাজী সোহেলের অনৈতিক কার্যকলাপ ও সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচারের দাবী জানিয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রনতি বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।