ইন্টারনেট ডাটা ও মোবাইল কল রেট কমানোর দাবি

8

ডেস্ক রিপোর্টঃ ইন্টারনেট ডাটা ও মোবাইল ফোনের কল রেটের দাম কমানো এবং এই খাতে আরোপিত নতুন ভ্যাট প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছেন দেশের ৪৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের স্বার্থে প্রশিক্ষণসহ শিক্ষকদের জন্য ‘ম্যাসিভ অনলাইন ওপেন কোর্স’ (এমওওসি) চালুর পরামর্শও দিয়েছেন এসব বিশিষ্ট নাগরিকরা।

শনিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে দেশের এই সিনিয়র নাগরিকরা বলেছেন, বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম চলছে। করোনা পরবর্তীকালেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর/ভ্যাটের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ইন্টারনেটের ওপর কর কমানোর পরিবর্তে বাড়ানো হয়েছে। বাজেটে দুই ধাপে (ব্যান্ডউইথ পাইকারি কেনা এবং খুচরা বিক্রির জন্য) ১৫% হারে ভ্যাট আরোপ করার ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩২ দশমিক ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংগঠনগুলোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী যেসব শিক্ষার্থী আগে গড়ে ১ হাজার টাকা মাসিক ইন্টারনেট বিল দিতেন একই সেবা নেয়ার জন্য এখন তাদেরকে ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা গুনতে হবে। এটা অবশ্যই ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনের পরিপন্থি।

তারা আরও বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন পিছিয়ে যাবে। এমনকি এ পর্যন্ত শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব অর্জন হোঁচট খাওয়ার আশংকা বৃদ্ধি পাবে। তদুপরি ২০৪১ সালের জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের কার্যক্রমগুলোও গতি হারাতে পারে। সুবিধাভোগী এবং সুবিধা বঞ্চিতদের মধ্যে বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আলামত এখনই দেখা যাচ্ছে। এটি আমাদের সংবিধান পরিপন্থি। মুজিববর্ষে এমনটি হওয়া কখনই কাম্য নয়।

বিবৃতিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলা হয়, আমরা জানি নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে। তাই অন্তর্বর্তীকালে ইন্টারনেট বিলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট মওকুফ করে এবং মোবাইল ফোনের কল রেটের ওপর মূল্য ছাড় দিয়ে সরকার প্রযুক্তি সেবা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুয়ের কাছে পৌঁছে দেয়ার পথ সুগম করবেন, এটা আমাদের জোর দাবি।

তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের নীতি নির্ধারকরা এই দাবি পূরণের মাধ্যমে তাদের জনবান্ধব রাজনৈতিক অঙ্গিকারের প্রতিফলন ঘটাবেন। তাহলে আমরা নিশ্চয়ই এদেশের আপামর মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি তথ্যপ্রযুক্তি জনসমৃদ্ধ, বিজ্ঞানমনস্ক, আলোকিত জাতি গঠনে এগিয়ে যেতে পারি।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমান বিশ্ব ক্রমাগত তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষাও ক্রমশ তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট ছাড়া সব ধরনের শিক্ষার্থীর শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা কঠিন হবে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং নতুন প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকল্প নেই। ঠিক এ সময় সরকার কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর/ভ্যাটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, কোভিড-১৯-এর ঝুঁকির কারণে মার্চের মাঝামাঝি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাখার জন্য সরকার দূর-শিক্ষণ কার্যক্রম, বিশেষ করে সংসদ টেলিভিশন যথাসাধ্য প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ও রেটিভিত্তিক শিক্ষা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়াস প্রশংসার দাবি রাখে। তবে শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুশিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ মানুষের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ‘রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তিকে অবশ্যই আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন। কোভিড-১৯ পরবর্তীসময়ে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে মূলধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ট্যাবলয়েট ও ফোন সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিবৃতিদাতারা হলেন- অর্থনীতিবীদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সেলিনা হোসেন, অর্থনীতি হোসেন জিল্লুর রহমান. অধ্যাপক এমএম আকাশ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, মামুনুর রশিদ, ইলিয়াস কাঞ্চন, শাইখ সিরাজ, রোকেয়া আফজাল রহমান, ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, হাসিবুল বাশার সুমন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ মজিদ, সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান, কাজী রফিকুল আলম, মিনু হক, ডাক্তার এজাজুল ইসলাম, অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ, অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, মনসুর আহমেদ চৌধুরী, শাহীন আনাম, ফারাহ কবীর, ড. মোস্তাক রাজা চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, ড. মনজুর আহমেদ, আসিফ সালেহ, সঞ্জীব দ্রং, করভি রাকসন্দ, ড. এম এহছানুর রহমান, ইনাম আল হক, ড. তোফায়েল আহমেদ, শরীফ জামিল, এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার ও মাইমুনা আহমেদ।যুগান্তর