ইংল্যান্ডের হারে সেমিফাইনালে খেলার পথ উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের

4

গতরাতে অপ্রত্যাশিতভাবেই শ্রীলংকার কাছে দ্বাদশ বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচ হেরেছে স্বাগতিক ও বিশ্বের এক নম্বর দল ইংল্যান্ড। ২০ রানে ঐ ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালে দৌঁড়ে থাকা বাংলাদেশের আশা উজ্জ্বল করলো ইংল্যান্ড। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে বাংলাদেশের পারফরমেন্স ও অনেক যদি উপর। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারে সেমির আশা কিছুটা নিভে গেলেও, সেটি এখন বেশ উজ্জ্বল । কিভাবে? পয়েন্ট টেবিলের চিত্র দেখে এবং টুর্নামেন্টের বাকী ম্যাচগুলোর হিসেব কষে বের করা যাক, কিভাবে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলবে।
৬ খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে লিগ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ বাকী রয়েছে। শেষ তিন ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান। এই তিন ম্যাচের তিনটিই জিতলে বাংলাদেশের পয়েন্ট গিয়ে দাড়াবে ১১তে। সেক্ষেত্রে সেমির পথ পুরোপুরিভাবেই পরিস্কার টাইগারদের। আর যদি দু’টি ম্যাচ জিতে তবে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৯। তখন পয়েন্ট টেবিলের অন্য দলগুলোর অবস্থার দিকে নজর দিতে হবে বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রেও সম্ভাবনা থাকছে বাংলাদেশের। তবে…কিভাবে?
বাংলাদেশের সেমিফাইনালের পথে যারা বাঁধা হয়ে আছে, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড-ভারত-শ্রীলংকা। যেমন অস্ট্রেলিয়া ৬ খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে। ৫ খেলায় ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নিউজিল্যান্ড, ৬ খেলায় ৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইংল্যান্ড, ৪ খেলায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে ভারত, ৬ খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে শ্রীলংকা।
ইংল্যান্ডের এখন ম্যাচ বাকী ৩টি। অস্ট্রেলিয়া-ভারত-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরমধ্যে সবগুলো ম্যাচ হারলে ইংলিশরা হারলে তাদের পয়েন্ট থাকবে ৮’এই। সেখানে বাংলাদেশের পয়েন্ট যদি হয় ১১ বা ৯, তাতে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের উপরেই থাকবে। ইংল্যান্ড যদি একটি ম্যাচও জিতে বাংলাদেশের ১১ পয়েন্টের নীচে থাকবে। তবে ইতিহাস বলছে, ১৯৯২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের কোন আসরেই অস্ট্রেলিয়া-ভারত-নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড । বিশ্বকাপের ১০ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া-ভারত-নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে ইংলিশরা। তাই এক্ষেত্রে আশা রয়েছে বাংলাদেশের।
বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। ৫ খেলায় ৯ পয়েন্ট কিউইদের। নিউজিল্যান্ডের বাকী চার ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড,পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার। এখানে একটি ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশের সমান ১১ হবে। আর একটিও না জিতলে বাংলাদেশের ৯ হবে। যদি দু’টি ম্যাচ জিতে যায় নিউজিল্যান্ড, তবে তাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশের জন্য নিউজিল্যান্ডের জয় পেতেই হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
৬ খেলায় ১০ পয়েন্ট অস্ট্রেলিয়া। বাকী তিন ম্যাচে তারা যদি একটি ম্যাচও জিতে যায়, তাদের সেমি নিশ্চিত। আর যদি তিনটি ম্যাচও হারে, তবে বাংলাদেশের পেছনে পড়তে পারে আবার নাও পারে। আর বাংলাদেশের জন্য ইংল্যান্ডকে আটকাতে হলে অস্ট্রেলিয়ার একটি ম্যাচ তো জিততেই হচ্ছে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সেমির পথে অস্ট্রেলিয়ার জয় প্রয়োজন। তাই অস্ট্রেলিয়াকে চিন্তা না করাই ভালো।
বাংলাদেশের সেমির পথে বাধা অন্য দু’টি দল ভারত-শ্রীলংকা। ভারতের যা অবস্থা, তা নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো। ৪ খেলায় ৭ পয়েন্ট টিম ইন্ডিয়ার। সেমির পথে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে তারা। তবে বাংলাদেশের জন্য হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় পেতেই হবে।
৬ খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চমস্থানে শ্রীলংকা। তাদের বাকী তিন ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে। এই তিন ম্যাচ থেকে ২টি হারলেই বাংলাদেশের (বাংলাদেশ বাকী তিনটি জিতলে ১১/দু’টি জিতলে ৯) নীচে থাকবে শ্রীলংকা। ২টি জিতলেও বাংলাদেশের (বাংলাদেশ বাকী তিনটি জিতলে ১১) নীচে থাকবে শ্রীলংকা। তবে সবগুলো জিতে গেলে সেমিতে উঠে যাবে লংকানরা।
তাই অনেক ‘যদি’ বলছে, ইংল্যান্ডের বাকী ম্যাচগুলো হারতে হবে-শ্রীলংকার দু’টি ম্যাচ হারলেই হবে। এজন্য ইংল্যান্ড-শ্রীলংকার ম্যাচের ফলাফলের দিকে বেশি নজর রাখতে হবে টাইগারদের।
পয়েন্ট টেবিলের শেষের দিকে সপ্তম থেকে দশম পর্যন্ত আছে যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান-আফগানিস্তান। এদেরও সম্ভাবনা থাকছে, তবে তা বেশ কঠিন। তবে যেহেতু বাংলাদেশের সেমি নিয়ে আলোচনা সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ড-শ্রীলংকা বড় ফ্যাক্টর বাংলাদেশের জন্য।-বাসস