আসছে হেল্পলাইন ৯৯৯

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাসার দরজায় ডাকাত। বাড়িওয়ালা কোনোমতে ৯৯৯ চাপার সময় পেয়েছেন। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে হাজির পুলিশ। গ্রেফতার হল ডাকাতরা। রক্ষা পেল জীবন ও সম্পদ।

এতদিন বিদেশে সিনেমায় এমন চিত্র দেখা গেলেও এবার বাংলাদেশেই একই মানের ৯৯৯-এর সেবা মিলবে। যা সক্রিয় থাকবে ২৪ ঘণ্টা। কল করতে কোনো খরচও হবে না।
দেশের মানুষের যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক মিলবে সেবা। আগামী মাসেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯৯৯ নম্বরের সেবা শুরু হতে যাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি কারিগরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সব থানার ওসি থেকে শুরু করে উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ৯৯৯ সেবাটির নাম রাখা হয়েছে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। এতে ফোন করলে একই সঙ্গে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা মিলবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশ পুলিশ এ সেবা শুরু করতে যাচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপাতত আবদুল গনি রোডে অবস্থিত পুলিশের কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার থেকে এ সেবা পরিচালিত হবে। এ সেবা কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (আইসিটি) এ প্রক্রিয়ায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।

গতকালের সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের এ সেবার বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়। হাতে-কলমে দেখানো হয়, ঠিক কখন ৯৯৯ সেবাটি ব্যবহার করতে হবে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে, প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে বা আশঙ্কা তৈরি হলে, কোথাও আগুন লাগলে বা বিল্ডিং ধসের ঘটনা ঘটলে, এমনকি দুর্ঘটনা ঘটলেও ৯৯৯-এ কল করে তাৎক্ষণিক সাহায্য চাওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা, কল করতে কোনো টাকা লাগবে না।

সভায় বলা হয়, ৯৯৯ থেকে আসা প্রতিটি কল সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হবে। ফোন রিসিভ করে সাহায্য প্রার্থীর বার্তাটি সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েই দায়িত্ব শেষ হবে না। তিনি যথাযথ সাহায্য পেলেন কিনা তা জানানোর জন্য ৯৯৯ থেকে পুনরায় ফলোআপ ফোন করা হবে।

সেবা দেয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কল স্বয়ংক্রিয়াভাবে রেকর্ড করা হবে। এ রেকর্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে সেবা প্রক্রিয়াটিকে আরও উন্নততর করা হবে।

জানা যায়, এ প্রকল্পে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ডিজিকনের প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান রাজিব কুমার দাস বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ২০১৫ সাল থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে সীমিত আকারে ২০১৬ সালের শেষ পর্যন্ত ৯৯৯ সেবা চালু ছিল।

পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে। সেখানে প্রায় ২৭ লাখ কল আসে। এর মধ্যে ৩৬ হাজার কল পুলিশকে জানানো হলে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজনে যারা সেবা চেয়েছেন তাদের ৯০ শতাংশ সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। প্রকল্পটি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের পর ২৮ অক্টোবর থেকে পুলিশের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু আছে।

আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ৫ ডিসেম্বর নতুন এ সেবার পর্দা উন্মোচন হবে। এদিকে পুরো প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ৯৯৯ থেকে আসা কল প্রথমে কল সেন্টারে রিসিভ করা হবে।

এরপর সাহায্যপ্রার্থীর বক্তব্যের নোট নিয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জায়গায় কল ট্রান্সফার করা হবে। যেমন- একজন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে বা হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে ফোন করলেন। ফোন রিসিভ করার পর কলসেন্টার থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করা হবে। থানার ওসি বা অন্য কোনো কর্মকর্তা কল সেন্টারের বার্তা পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠাবেন।

সাহায্য দেয়ার পর তিনি ৯৯৯-এ পুনরায় ফলোআপ বার্তা পাঠাবেন। এভাবে একটি প্রক্রিয়া শেষ হবে। তবে অবাঞ্ছিত কল এড়ানোর সব ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যিনি দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে ঘটনাস্থল জানাতে পারবেন না, তারও দুর্ভাবনার কোনো কারণ নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তির সহায়তায় তার লোকেশন বের করতে সক্ষম হবে।-যুগান্তর