আশুগঞ্জ-এগ্রো ইরিগেশন সবুজ সেচ প্রকল্প ড্রেন ভেঙ্গে শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট

5

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: আশুগঞ্জ-এগ্রো ইরিগেশন সবুজ সেচ প্রকল্পের ড্রেন ভেঙ্গে পানিতে একটি বাড়িসহ শতাধিক বিঘার রোপা ইরি ধানের জমি তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে সরিষা ক্ষেত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের সোহাগপুর জুলফু মেম্বারের বাড়ির পাশে এ ড্রেন ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে। সেচ প্রকল্পের কুলিং রিজার্ভার পুকুর ভরাটের ফলে আয়তন কমে যাওয়া ও মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলমান থাকায় মহা সড়কের পাশে ড্রেন ছোট হওয়ার কারনে পানি ঠিকমত সরতে পারে না। এই এলাকার পানি ফুলে গিয়ে এই ভাঙ্গনের করন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা। সেচ প্রকল্পের প্রধান সুইচ বন্ধ করে ড্রেনে পানির প্রবাহ কমিয়ে ড্রেন মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানায়, দুপুরে হঠাৎ করে সেচ প্রকল্পের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে উপজেলার সোহাগপুর এলাকায় ড্রেনের উত্তর পাশের একটি অংশ ভেঙ্গে গিয়ে তীব্র স্রোতে পানি ফসলের মাঠে ঢুকতে শুরু করে। এসময় ড্রেনের পাশের জনৈক জলফু মেম্বারের একটি বালির ভিটি ও গাছপালা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এতে কমপক্ষে শতাধিক বিঘা রোপা ইরি ধান ও পাকা সরিষা ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির স্রোতের সাথে ব্যাপক ভাবে বালি যাওয়ায় জমির সাকুল্য ফসল নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, সেচ প্রকল্পের আশুগঞ্জ উপজেলার রেলগেইট এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের পুকুরটি ছিল প্রধান রিজার্ভার। গত বছর এ পুকুরটির প্রায় ৭৫ ভাগ ভরাট করে ফেলে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। ফলে রিজার্ভার পুকুরের আয়তন কমে যাওয়ায় পানির ধারন ক্ষমতা কমে গেছে। এদিকে আশুগঞ্জ নদী বন্দর থেকে আখাউরা স্থলবন্দও পর্যন্ত মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের কাজে মাহাসড়কের পাশে প্রায় ১১ কিলোমিটার ড্রেন-খাল ভরাট-ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অন্যান্য বছর যেখানে প্রায় ৩০/৪০ ফুট প্রশস্ত ড্রেন-খাল দিয়ে সেচের পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে তা কমে গিয়ে কোন কোন স্থানে ৪/৫ফুট নালায় পরিনত হয়েছে। এ অপ্রসস্ত ড্রেন-নালাও পানির চাপে বালিতে ড্রেনের গভীরতা কমে যাওয়ায় পানির চাপে ড্রেন ভেঙ্গে যায়। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর, আশুগঞ্জ, সরাইল ও নবীনগর উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান ও প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে গত মাসে (১৫/০১/২০২১) সেচের পানি অবমুক্ত করা হয়েছে।
পানিতে তলিয়ে গিয়ে ফসল নষ্ট হওয়া কৃষকের মধ্যে হাজী আবুল কাসেম জানান, ড্রেন ভেঙ্গে তার মোট ১৭-১৮ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাগানো ইরি ধান (রোপানো) ও সরিষা। হাজী জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তার ৯-১০বিঘা সরিষা ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এদিকে জলফু মেম্বারের বাড়ির অর্ধেক পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে মাসুদ মিয়া নামে একজনের বয়লারের অংশ বিশেষ। বিএডিসি‘র উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ) মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ড্রেন ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এতে কমপক্ষে ৬০-৭০ বিঘা রোপা ইরি ধান ও সরিষার ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বিএডিসি‘র (ক্ষুদ্রসেচ) সহকারি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে সেচ প্রকল্পের প্রধান সুইচ পয়েন্টে পানির বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পানি কমে গেলে ড্রেন মেরামত করা হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএডিসি‘র (ক্ষুদ সেচ) নির্বাহী পকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের আওতা ব্যাপক। কিন্ত চার লেন প্রকল্পের কাজে সেচ প্রকল্পের ড্রেন ছোট হয়ে গেছে। উজানে পানি পৌছানোর জন্য ড্রেন এখন পানির চাপ বেশি পড়ায় তা ভেঙ্গে গেছে। প্রকল্পের ড্রেন ভেঙ্গে কৃষকের ফসলি জমি তলিয়ে যাবার খবর পেয়ে পানির পয়েন্ট বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে এমনটি জানিয়ে আশুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য যাচ্ছি। পানির পয়েন্ট বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে।