আমরা সবাই কাতালান

যুগবার্তা ডেস্কঃ “স্পেনের স্বাধীনতাকামী কাতালান রাজ্যের নেতা কার্লেস পুজদামন শনিবার বলেছেন, মাদ্রিদের সরাসরি শাসনের বিরুদ্ধে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। তিনি কাতালানকে একটি ‘স্বাধীন দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য’ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন। গার্ডিয়ান ও বিবিসি। মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার কাতালানে সরাসরি শাসন প্রতিষ্ঠা করে। চার দশকের মধ্যে রাজ্যটিতে কেন্দ্রের প্রত্যক্ষ শাসন জারির ঘটনা এটাই প্রথম। একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কেন্দ্র রাজ্য সরকার ও পুলিশপ্রধানকে বরখাস্ত করে। তবে বরখাস্ত হওয়া আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট পুজদামন জানিয়েছেন, কাতালোনিয়া স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন। বরখাস্ত হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পরও পুজদামনকে বেশ শান্ত অবস্থায় একটি রেস্তরাঁয় দুপুরের খাওয়া সারতে দেখা গেছে। নিজ শহর জিরোনায় অবস্থিত ওই রেস্তরাঁয় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন, জাতীয় টেলিভিশন সরাসরি এ দৃশ্য প্রচার করে। তিনি এ সময় বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আসা হুমকি ও চাপ আমরা প্রতিহত করব। তবে এ বিষয়ে জনজীবনে বিশৃঙ্খলা ঘটানো হবে না।’ তার সরকারের শক্তি প্রয়োগের পথে এগোনোর ইচ্ছা নেই, এ কথাও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
কাতালান শুক্রবার প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। স্পেনের আইনে এ ঘোষণা ছিল অবৈধ। এর জবাবে মাদ্রিদ পুজদামনকে বরখাস্ত ও কাতালান পার্লামেন্ট বিলোপ করে। ২১ ডিসেম্বর সেখানে নির্বাচন হতে পারে বলে কেন্দ্র জানায়। স্পেনের উপপ্রধানমন্ত্রী সারিয়া সায়েঞ্জ দ্য সান্তামারিয়াকে কাতালোনিয়ার দৈনন্দিন কাজকর্ম দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি এর আগে থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাতালান সঙ্কট দেখাশোনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর ১৯৭৯ সাল থেকে রাজ্যটি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়ের সামনে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পুজদামন শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদের আহ্বান জানানোর আগেই শুক্রবার হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী জনতা বার্সিলোনার সড়কগুলোতে নেমে আসে। এরপর শনিবার বার্সিলোনা ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত। কোন পক্ষই এদিন রাস্তায় নামেনি। শহরের সরকারী ভবনগুলোতে স্পেনের পতাকা উড়তে দেখতে গেছে। স্বাধীনতাকামীরা এখন সরকারী দফতর ঘিরে মানববন্ধন করার প্রস্তাব দিয়েছে। রাজ্যটিতে অবস্থানরত প্রায় দুই হাজার সরকারী কর্মকর্তা বলেছেন, তারা মাদ্রিদের নির্দেশনা গ্রহণ করবেন না। কেবলমাত্র একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি মাদ্রিদের কথামতো চলবেন। স্থানীয় একটি শ্রমিক ইউনিয়ন রবিবার থেকে ১০ দিনের ধর্মঘট ডাক দিয়েছে।
সেখানে এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে তা নতুন নির্বাচন দিলেই মাদ্রিদের জন্য সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, নতুন নির্বাচন দিলেও বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন হবে না। নতুন পার্লামেন্টেও স্বাধীনতাপন্থীরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকবেন। সোসাইদাদ সিভিল কাতালোনিয়া নামে মাদ্রিদের সঙ্গে ঐক্যপন্থী একটি গ্রুপের নেতা এ্যালেক্স র‌্যামোস একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা সমর্থন করেন না। তার মতে, এর ফলে জনগণের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হবে। কিন্তু আসল কথা হলো ‘আমরা সবাই কাতালান।’