“আমরা কেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করলাম”

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে ঐক্যের ফসল ছিল বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টি। কমিউনিস্টদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন কমরেড বিমল বিশ্বাস যিনি ২০০৯ইং সালের পর থেকে বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির আদর্শ, নীতি, কৌশল, সাংগঠনিক নীতিমালার ক্ষেত্র ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে থাকেন এবং ২০১০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত পার্টি কংগ্রেসে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অত্যন্ত সচেতনভাবে সরে দাড়ান। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারে কমরেড রাশেদ খান মেনন মন্ত্রী পরিষদে যোগদানের প্রশ্নে কমরেড বিমল বিশ্বাস, কমরেড নুরুল হাসান, কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, কমরেড মনোজ সাহা তীব্রভাবে যে বিরোধীতা করেন তা সর্বজনবিদিত। কমরেড বিমল বিশ্বাস সহ ওয়ার্কার্স পার্টির নৌকা প্রতীকে অংশগ্রহণ করা (যে আত্মসমালোচনা অনেক আগেই করেছেন) এটিও ছিল আদর্শগত ও নিতীগত ভুল। এইভাবে আদর্শগত নিতী ও কৌশলগত এবং সাংগঠনিক অধঃপতনের ধারা শক্তিশালী হতে থাকে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিতে আদর্শ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিচ্যুতির কারনে ঐ সময়ে কমরেড মোজাম্মেল হক তারা সহ অনেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। ২০১৯ সালে নভেম্বরে অনুষ্ঠিত পার্টি কংগ্রেসের আগে ২২শে অক্টোবর কমরেড বিমল বিশ্বাস বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করেন এবং এটিই ছিল তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার।কমরেড নুরুল হাসান, কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ ও কমরেড মনোজ সাহা সহ কেন্দ্রীয় কমিটির বেশকিছু সদস্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। কমরেড বিমল বিশ্বাসও এই প্রকৃয়ায় সামিল হন। পুনর্গঠিত হয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী)।ঐ পার্টির প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ পার্টি গঠিত করা এবং পরবর্তীতে প্রকৃত কমিউনিষ্টদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা। কমরেড বিমল বিশ্বাস তিন মাসের মধ্যেই বুঝতে পারেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে ঐক্যবদ্ধ পার্টি গঠনের পথে অগ্রসর হবেনা কারণ বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিকে সংসধনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি হিসাবে মূল্যায়ন করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে তথাকথিত পিকিং পন্থীদের সাথে একপার্টি গঠনের ক্ষেত্রে রয়েছে বিরোধিতা।এই ঐক্য সংক্রান্ত ব্যাপারে নানা ধরনের কুৎসা অপপ্রচার চলতে থাকলো ফলে কমরেড বিমল বিশ্বাস ২০২১ সালের ২৮শে ডিসেম্বর কমরেড হেমন্ত সরকারের মৃত্যু দিবসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিলেন এখন থেকে তিনি কোনো দলের সাথে সম্পর্কিত নন। এমতাবস্থায় আমরা কমরেড বিমল বিশ্বাস এর নিকট জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন, তোমাদের আদর্শগত রাজনৈতিক সাংগঠনিক যোগ্যতা থাকলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করতে পারো। তিনি আরও বললেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যেমন বড়দাগের মিল রয়েছে তেমনি অতীত বর্তমান নিয়ে আমার সাথে পার্থক্য ও আছে। তবে আমার মস্তিষ্কের সাথে সামান্যতম আর্থিক যোগ্যতা থাকলে এইধরনের বাধ্যবাধকতার পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে এই বৃদ্ধ বয়সে শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তোমাদের সাথে আমিও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিতাম। তোমরা নিজস্ব মেধা-যোগ্যতা-ক্ষমতা দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি করতে পারলে যোগ দিতে পারো। যদি কখনও মনে করো ঐ অঞ্চলে আমার সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন সেক্ষেত্রে আমাকে বলবে। এখন সিদ্ধান্ত একান্তই তোমাদের। আমরা যারা একমত পোষন করি তারা দ্রুততার সাথে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে মতৈক্য ও মতপার্থক্য নিয়েই আমরা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করব। সেই প্রেক্ষিতেই আগামী ২৮শে জানুয়ারী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নড়াইল জেলা সম্মেলনে যোগদান করছি। কমরেড বিমল বিশ্বাসের একটি সতর্ক বক্তব্যে আমরা একমত হয়েছি যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কমিউনিস্ট পার্টি না হতে পারে কিন্তু তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের মিত্র শক্তি।একই কথা প্রযোজ্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী) র ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির আদর্শ রাজনীতি বাদ দিয়ে যশোরের টাউন হল ময়দান, এগারো খান, বড়েন্দার, নলদিরচর সহ বহু জায়গায় কমরেড বিমল বিশ্বাসকে যে গালমন্দ করেছে তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে খারাপ সম্পর্কে যাবার কথা নয়। পরিশেষে বলতে চাই যেসকল কমিউনিস্ট পার্টি শ্রেণিসংগ্রামকে ভিত্তি করে পার্টি গড়ে তোলার কাজকে অবহেলা করে এবং জনগণের সমস্যা নিয়ে পাঞ্জা লড়াইয়ের হিম্মত রাখে না সেই পার্টি কখনো একটি কমিউনিস্ট পার্টির দায়িত্ব ও বিপ্লবের কাজে উপযুক্ততার পরিচয় দিতে পারে না।-লেখক: পলাশ কুণ্ডু, নড়াইল।