আপিল করেছেন খালেদা জিয়া

যুগবার্তা ডেস্কঃ দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে কারাগারে যাওয়া বিএনপি চেয়ারপারন ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেছেন। আপিল গ্রহণের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। খালেদা জিয়ার আপিলের নম্বর হচ্ছে ‘ক্রিমিনাল আপিল নং-১৬৭৬/১৮।’ ১ হাজার ২২৩ পৃষ্ঠার আপিল আবেদনে ২৫টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। এসব যুক্তিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে খালাসের আবেদন করা হয়েছে। সোমবার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

দুর্নীতির মামলার দণ্ডিত হয়ে ১৪ দিন ধরে কারাগারে বন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে চুপচাপ দিন কাটছে তার। দিন-রাতে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি অজিফা পড়েন তিনি। এ ছাড়া তিনি পত্রিকা পড়েন ও বিটিভি দেখেন। কারাগারের দিনগুলোতে খালেদা জিয়া মূলত চুপচাপ সময় কাটাচ্ছেন। কারা কর্মকর্তাদের কাছে এ পর্যন্ত তিনি কোনো চাহিদার কথা বলেননি। কারা কর্মকর্তারা এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে নিজেই বলবেন। আদালত ডিভিশন-১ প্রাপ্ত বন্দি হিসেবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আছেন তার গৃহ-সহযোগী ৩৫ বছরের ফাতেমা বেগম।

কারা সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের দিন শুরু হয় ফজর নামাজ পড়ার মধ্য দিয়ে। এর পর তিনি সকালের নাশতা হিসেবে রুটি ও সবজি খান। এর পর কারা কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পড়েন তিনি। পরে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে গোসল করে দুপুরে জোহরের নামাজ পড়েন। পরে তিনি অজিফা পড়েন। খালেদা জিয়া দুপুরের খাবার হিসেবে ভাত, সবজি ও মাছ খান। কারাগারের নিয়মানুযায়ী, ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার কক্ষের দরজা আটকে দেয়া হয়। এর আগে তিনি দোতলার বারান্দায় পাঁয়চারি করেন। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়েন খালেদা জিয়া। এর পর কিছুটা সময় বিটিভি দেখার পর রাতের খাবার খান। রাতে রুটি, সবজি ও মুগ ডাল খান।

পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রান্না করা এসব খাবার প্রথমে একজন ডেপুটি জেলার ও জেলার খান। পরে চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে খালেদা জিয়াকে পরিবেশন করা হয়। গৃহ-সহযোগী ফাতেমা বেগমই খালেদা জিয়াকে ওষুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরিচর্যার কাজ করেন। তবে তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকেন না। ফাতেমা দিনেরবেলা কর্তব্যরত নারী কারারক্ষীর কাছে থাকেন। প্রয়োজন সাপেক্ষে বিএনপি নেত্রীর কাছে গিয়ে তাকে ওষুধ খাওয়ানোসহ অন্যান্য সহায়তা দেন। এর পর রাতে খালেদা জিয়ার পাশের কক্ষে অবস্থান করেন তিনি।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবারও বিক্ষোভ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। প্রতিটি স্থানেই অবশ্য পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও কাদুনে গ্যাস ছোঁড়ে। এর মধ্যে ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পণ্ড করতে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছুঁড়লে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহ ২০ জনকে আটক করেছে।